রূপসীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ১৮ মে ২০১৮ | আপডেট: ০১:০৬ পিএম, ১৮ মে ২০১৮
রূপসীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

বেদে পল্লীর সাপুড়ে আসমাউল সরদারের মেয়ে রূপসী দারিদ্র্যের কারণে যখন পড়াশুনা ছেড়েই দেবে ভাবছিল তখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা ইয়াসমিন। রূপসী আক্তারের একাদশ শ্রেণিতে বিনামূল্যে ভর্তি, বই প্রদান, খণ্ডকালীন অনুদানসহ মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

রূপসী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় নড়িয়া লোনসিং উচ্চ বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৩ দশমিক ৩৯ ফলাফল করেছে। দরিদ্র পরিবারের মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ায় ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রূপসীর বাবা-মা।

আবেগ আপ্লুত হয়ে রূপসীর মা রুপালী বেগম বলেন, ইউএনও মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন নিজ হাতে না নিলে আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না মেয়েটিকে পড়াশোনা করানো।

নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের চাকধ দিঘিরপাড় জামে মসজিদ সংলগ্ন নড়িয়া-চাকধ সড়কের পাশে ছোট একটি দো-চালা ভাসমান টিনের ঘরে বসবাস রূপসীর পরিবারের। কথা হলে রূপসীর মা জানান, তাদের বাড়ি ছিল বিক্রমপুরে। যতটুকু জমি ছিল পদ্মা নদী কেড়ে নিয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২৫ বছর আগে এখানকার সরকারি জমিতে তারা বসবাস শুরু করেন। রূপসীর বাবা বিভিন্ন জেলায় সাপ খেলা দেখায়। বাবা সাপ ধরে যে অর্থ পান তা দিয়ে কোনো রকমের চলে তাদের সংসার।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, অবহেলিত ও দরিদ্রদের বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করতে গিয়ে পরিচয় হয় রূপসীর পরিবারের সঙ্গে। জানতে পারি বেদে পল্লীর এই মেয়েটি লোনসিং উচ্চ বিদ্যালয় পড়ছে। দারিদ্র্যতার কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারছে না। তখন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে পরামর্শ করে রূপসীর ফরম পূরণ করাই ও এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলি। শুনেছি সে পাস করেছে। খুব খুসি হয়েছি। রূপসী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নড়িয়া সরকারি কলেজে আবেদন করেছে। আমি রূপসীর পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করব।

নড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, শুধুমাত্র আর্থিক বা শিক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা নয়, রূপসীর পাঠদানের ব্যাপারেও বিশেষ নজর দেয়া হবে।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস