মহেশখালীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২:৫৯ এএম, ২৫ মে ২০১৮ | আপডেট: ০১:১১ এএম, ২৫ মে ২০১৮

কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকা বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী গ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোস্তাক আহমদ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ত্রিমুখী গোলাগুলি হওয়ায় কার গুলিতে মোস্তাক মারা গেছেন তা নিশ্চিত না হলেও পুলিশের দাবি দু’গ্রুপের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ই মোস্তাক নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, ৭ রাউন্ড কার্তুজসহ ৪টি থ্রি কোয়ার্টার বন্দুক জব্দ করেছে। নিহত মোস্তাক বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী গ্রামের আনোয়ার পাশা প্রকাশ মোছইন্যার ছেলে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ মে) রাত ১০টার দিকে বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী এলাকায় গোলাগুলির সংবাদ পেয়ে থানার এএসআই সনজিব দত্ত, জুয়েলসহ বেশ কজন অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে যায়। এসময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

পরে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোস্তাককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। তার কোমরে ১টিসহ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪টি থ্রি কোয়ার্টার দেশীয় বন্দুক, এক হাজার পিস ইয়াবা ও সাত রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ৪২ রাউন্ডসহ উভয়পক্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয় বলে উল্লেখ করেন ওসি।

ওসি আরও জানান, অাহত মোস্তাককে মহেশখালী হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোস্তাক একজন অস্ত্র তৈরির কারিগর এবং অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেন ওসি বলেন, তার বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, একটি পুলিশ অ্যাসল্ড ও আরেকটি মাদক মামলা রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ জেনেছে গ্রুপ দুটি ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের অন্তর্কোন্দলের জের ধরে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে নিহত মোস্তাকের পরিবারের দাবি, বন্দুকযুদ্ধ নয়, মোস্তাককে ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়েছে। যুদ্ধরত কোনো ব্যক্তির লুঙ্গি এত সুচারুরূপে গোছালো থাকে না। ইয়াবার প্যাকেটগুলোও এত নাটকীয়ভাবে ছড়িয়ে থাকার কথা নয়। এটি তার মরদেহ ও আশপাশের ছবিই বলে দেয়।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ