প্রতিবছর জরিমানা, প্রতিবছর অস্বাস্থ্যকর সেমাই তৈরি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ১২:৩১ পিএম, ২৬ মে ২০১৮

ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করা হচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরার বিভিন্ন অস্থায়ী কারখানায়। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ দিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব লাচ্ছা সেমাইকে এক প্রকার বিষই বলা চলে। প্রতি বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও লাইসেন্স এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই তৈরি এসব লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করা হচ্ছে খোলা কিংবা ক্ষতিকর পলি প্যাকেটে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জাজিরার ডুবিসায়বর বন্দর (কাজিরহাট বাজার) সুমন লাচ্ছা সেমাই ও সালমান স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হাতে গ্লোবস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে সেমাই। এসব কারখানাগুলোতে মানা হচ্ছে না পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির কোনো নিয়মনীতিও। অস্থায়ী এ কারখানায় দিনরাত চলছে সেমাই তৈরির কাজ। অধিক মুনাফার আশায় এসব সেমাইতে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের ময়দা, পামওয়েলসহ পুড়ে যাওয়া তেল। অতি নিম্নমানের পামওয়েল, ডালডা দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই।

এ ব্যাপারে সুমন লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক ফজলুল হক টেপা জানান, ঈদ এলেই লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করেন তিনি। শুধু ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা এই দুই ঈদের জন্যই এখানে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করা হয়।

উৎপাদনে যাওয়া এসব অস্থায়ী কারখানায় গড়ে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ খাঁচি (প্রতি খাঁচিতে ৩৭ কেজি) লাচ্ছা উৎপাদন হচ্ছে। এসব অস্থায়ী কারখানায় উৎপাদিত লাচ্ছা রাতের আঁধারে চলে যাচ্ছে শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন বাজারের খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে। সেখানে প্রতি খাঁচি লাচ্ছা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায়। পরে তা সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট দোকানে চলে যাচ্ছে।

লাইসেন্স ও বিএসটিআইয়ের অনুমতি নেয়া আছে কিনা জানতে চাইলে সালমান স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক মো. সুমন শেখ বলেন, জাজিরার ডুবিসায়বর বন্দরে (কাজিরহাট বাজার) দুইটি সেমাই কারখানা রয়েছে। দুটিতেই লাইসেন্স ও বিএসটিআইয়ের অনুমতি নেয়া আছে। যদি কাগজপত্র দেখতে হয় তাহলে অফিসে গিয়ে দেখেন। আমরা দেখাব কেন?

sarotpur

এ বিষয়ে জেলা বেকারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর বলেন, সেমাই হাত দিয়ে ছাড়া তৈরি করা সম্ভব না। আর এখন আগের মতো ভেজাল লাচ্ছা তৈরি হয় না। আমার জানামতে দুটি কারখানারই লাইসেন্স ও বিএসটিআই অনুমতি আছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মো. এহসানুল ইসলাম বলেন, পোড়া তেল, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যদি সেমাই তেরি করা হয় তাহলে ক্যান্সার, লিভার ও কিডনির সমস্যা, ডায়রিয়া ও টাইফয়েড হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে এসব ভেজাল কারখানায় নিয়মিত অভিযান চালানো হবে এবং কোনো প্রকার অনিয়ম পেলে জরিমানা করা হবে। ভেজাল পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমাত উল্লাহ্ বলেন, ফলের দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান ও কারখানায় অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। সেমাইয়ের কারখানাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভেজাল সেমাই তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম