নকলে বাধা দেয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৩৫ পিএম, ২৬ মে ২০১৮

বাগেরহাটে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকদের সহায়তায় প্রকাশ্যে চলছে নকলের মহোৎসব। শরণখোলায় নকলে বাধা দেয়ায় পরীক্ষার্থীদের হাতে এক শিক্ষা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে উপজেলার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে।

জানা যায়, শনিবার সকল ৯টায় উপজেলার রাজৈরস্থ শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি সমমানের তৃতীয় সেমিস্টারের ভূগোল পরীক্ষায় ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

ওই দিন বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান খান পরীক্ষার্থীদের কক্ষ পরিদর্শনে গিয়ে নকলের ছড়াছড়ি দেখে হতবাক হন।

এ সময় এক শিক্ষার্থীর খাতা জব্দ করেন তিনি। একপর্যায় ৩-৪ জন পরীক্ষার্থী ওই শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

তবে ঘটনার সময় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কলেজটির বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক বিপ্রত রায় ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক হিরু শেখ কোনো প্রতিবাদ না করে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা টাকার জন্য আমাদের বিরক্ত করেন। তার টাকা ফরম পূরণের সময় কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শারমিন সুলতানার কাছে দেয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের বিরক্ত করবেন কেন? এ জন্য কেন্দ্রে তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে।

তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা টাকার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি পরীক্ষার্থীদের হাতে ব্যাপক নকল দেখে বাধা দেন। পরে পরীক্ষার্থী নামধারী ৩-৪ জন বখাটে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আলম ফকির এলাকায় না থাকায় তিনি বিষয়টি তাকে জানাতে পারেননি।

কক্ষ পরিদর্শক বিপ্রত রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার্থীরা অধিকাংশই বয়স্ক হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করেননি। তবে, যা ঘটেছে তা দুঃখজনক।

অন্যদিকে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সার্বিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা (হল সুপার) প্রভাষক শারমিন সুলতানা জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শওকত আলী বাবু/এএম/এমএস