বগুড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন দিতে জজকে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ২৭ মে ২০১৮
প্রতীকী ছবি

বগুড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন নিয়ে জজের সঙ্গে হট্টগোল করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা (অতিরিক্ত পিপি, পিপি ও এপিপি)। তারা ঈদের আগেই এসব আসামিদের জামিনের জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন।

বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন দিতে জেলা জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর অব্যাহত চাপ আসছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পিপিদের চাপের মুখে বিব্রত হয়ে এজলাস ত্যাগ করেন জেলা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার। পরে ঘটনাটি আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বগুড়া পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাঘব বোয়ালরা আত্মগোপন করে তারা ঘনঘন স্থান ও কৌশল পরিবর্তন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে মোবাইলে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলায় সাত দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪১টি মামলায় ১৯০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ হাজার ৭৬১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৩০ বোতল ফেনসিডিল, ৩১ গ্রাম হেরোইন, ২২ কেজি গাঁজা এবং ১৫০ অ্যাম্পুল নেশার ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা এখন জেল হাজতে রয়েছেন।

এদিকে অভিযানে গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন নিয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পিপি, এপিপি ও কয়েকজন আইনজীবী রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। তাদের সঙ্গে অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত বিএনপি সমর্থিত একজন আইনজীবীসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। মক্কেলদের জামিন দিতে তারা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরের পর অতিরিক্ত পিপি লুৎফে গালিব আল জাহিদ, এপিপি সামসুর রহমান, রফিকুল ইসলাম (২), আরিফুর রহমান দুখু, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নাফ, বিএনপি সমর্থিত অ্যাডভোকেট ফজলু মুন্সী ও হযরত বেলাল প্রমুখ আইনজীবী জেলা জজ আদালতে হট্টগোল করেন।

তাদের পছন্দের আসামিকে জামিন না দেয়ায় তারা জেলা জজ নরেশ চন্দ্র সরকারকে বদলির হুমকিও দেন। এ সময় বিব্রত হয়ে তিনি এজলাস ত্যাগ করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জি বলেন, এসবের নেপথ্যে সরকারি দায়িত্বশীল এক কৌঁসুলি রয়েছেন। ওই ব্যক্তি অন্যদের উস্কে দিচ্ছেন।

অভিযুক্ত অতিরিক্ত পিপি লুৎফে গালিব আল জাহিদ জানান, তারা কয়েকজন সুষ্ঠুভাবে আদালত চলার ব্যাপারে জজের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কাউকে জামিন দেয়ার ব্যাপারে তারা জজকে কোনো চাপ দেননি। হুমকি দেয়ার ঘটনাটি ঠিক নয়।

পিপি আবদুল মতিন জানান, তিনি শুনেছেন উল্লেখিত আইনজীবীরা মাদক ব্যবসায়ী মক্কেলদের জামিনের ব্যাপারে জজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেছেন। সেই সময় জজ এজলাস থেকে ওঠে গেছেন।

লিমন বাসার/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।