‘মোটরসাইকেলের জন্য বাবার গায়ে আগুনের ঘটনা মিথ্যা’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ২৮ মে ২০১৮

ফরিদপুরের কমলাপুরে আগুনে পুড়ে নিহত এটিএম রফিকুল হুদা পিন্টু দুর্ঘটনাজনিত কারণে মারা যান। তার মৃত্যুর সঙ্গে ছেলে ফারদিন হুদা মুগ্ধ কোনোভাবেই জড়িত নয়। সম্পত্তির লোভে আজ তাকে পরিকল্পিতভাবে বাবার হত্যাকারী বানানো হয়েছে। ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে তার সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হতে চলেছে। মিথ্যা মামলা থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে মুগ্ধর জীবন রক্ষা জরুরি।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছেন নিহত রফিকুল হুদা পিন্টুর স্ত্রী সিলভিয়া হুদা আলো।

২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন মডেলের মোটরসাইকেল না পেয়ে মুগ্ধ ক্ষুব্ধ হয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে তার বাবা রফিকুল হুদা পিন্টুকে আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মারা যান রফিকুল হুদা পিন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে সিলভিয়া হুদা আলো লিখিত বক্তব্যে বলেন, দুর্ঘটনায় আমার স্বামী মারা যান। অথচ আমাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই আমার স্বামীর ভগ্নিপতি আকরাম উদ্দিন আহমেদ মুগ্ধকে বাবার হত্যাকারী সাজিয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৭ তারিখ-২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিলভিয়া হুদা আলো বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমসহ পুলিশকে আকরাম উদ্দিন মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেন যে, নতুন মডেলের মোটরসাইকেল না পেয়ে মুগ্ধ ক্ষুব্ধ হয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে তার বাবাকে আহত করে। পরে তিনি মারা যান। তিনি তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একটি সংসার ও একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পথ বেছে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, তীব্র মশার কারণে কয়েল জ্বেলেছিলাম। ঘরের আলনার নিচে কাপড় রাখা ছিল। ফ্যানের বাতাসে তাতে আগুন ধরতে পারে। হঠাৎ আমি শব্দ শুনে দেখি আগুন জ্বলছে। এরপর মুগ্ধ আর আমি সেখানে প্রথম আগুন নেভাতে যাই। কয়েক মিনিট পর আমার স্বামী সেখানে আসেন এবং আগুন নেভাতে এগিয়ে গেলে তার পরনের লুঙ্গিতে আগুন ধরে যায়। এ সময় সে দৌড়ে নিচে নেমে গেলে ভাগ্নে নির্ঝর তাকে একটি কাঁথা জড়িয়ে আগুন নেভান।

Mugda1

সিলভিয়া হুদা বলেন, আকরাম উদ্দিন তো ঘটনার সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কার কাছে থেকে জেনে আকরাম উদ্দিন মামলা করলেন? আর ওই ঘটনায় আমি এবং ছেলে মুগ্ধও অগ্নিদগ্ধ হই এবং ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হই। অথচ এজাহারে সে কথা এড়িয়ে যান কেনো? তিনি কার কাছ থেকে জানলেন আমার স্বামীর হাতে সিগারেট ছিল? মুগ্ধ কখনোই তার বাবকে মোটরসাইকেল কিনে দিতে বলেনি। অথচ তাকে কে বললো মুগ্ধর সঙ্গে মোটরসাইকেল কেনা নিয়ে বাদানুবাদ হয়েছে? এ থেকেই বোঝা যায় তার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। সম্পত্তি গ্রাসের উদ্দেশ্যে তিনি মুগ্ধর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

এ সময় সিলভিয়া হুদা অভিযোগ করে বলেন, ভগ্নিপতি আকরাম উদ্দিনের কাছে আমার স্বামী ২ লাখ টাকা পেতেন। এই টাকা ফেরত দেয়ার জন্য দুর্ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেও চাপ দিলে তাদের মাঝে বাদানুবাদ হয়। এতে আকরাম সাহেব ক্ষুব্ধ হন। ৭৫ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ আকরাম উদ্দিন ঠিকমতো চোখে দেখতেন না, কানেও শুনতেন না। এ দুর্ঘটনার পর তার ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন আকরাম উদ্দিন। সিলভিয়া হুদা মিথ্যা মামলা থেকে ছেলে মুগ্ধর নিষ্কৃতি কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন মডেলের মোটরসাইকেল না পেয়ে মুগ্ধ ক্ষুব্ধ হয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে তার বাবা রফিকুল হুদা পিন্টুকে আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মারা যান রফিকুল হুদা পিন্টু। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মেধাবী মুগ্ধ বিজিবি পরিচালিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে সময়ে গত ২৩ এপ্রিল বাবাকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ মুগ্ধকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকা থেকে এনে যশোরের শিশু সংশোধনাগারে নেয়া হয়। তবে মামলার শুনানির জন্য তাকে বর্তমানে ফরিদপুর জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে। মামলার বাদী আকরাম উদ্দিন আহমেদ গত বছর মৃত্যুবরণ করেন।

আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।