মাদকবিরোধী অভিযান : আজও নিহত ১২

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ এএম, ২৮ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৩:১৮ পিএম, ২৮ মে ২০১৮

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত কয়েকদিনের মতো রোববার রাতেও রাজধানীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ‌‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও নিজেদের মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ ১২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লা

কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার মধ্যরাতে জেলার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের অদূরে পশ্চিম ভিংলাবাড়ি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা এলাকায় এ দুটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে দোলন (৩৫) এবং নুরু (৫৫)। এর মধ্যে দোলন পুলিশের ও নুরু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরে মাদক বিক্রির সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত পরিচয় (আনুমানিক বয়স ৪০ বছর) এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার রাত ৩টার দিকে মিরপুরের রূপনগর ‘ট’ ব্লকে সরকারি কর্মচারীদের নির্মাণাধীন ভবনের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৪-৫ হাজার পিস ইয়াবা ও ১টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

রূপনগর থানার এসআই মিজানুর জানান, ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা হবে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি (পশ্চিম) বিভাগের একটি দল রাত ৩টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর গুলি চালায়। এসময় ডিবিও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁদপুর

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার মধ্যরাতে ফরিদগঞ্জের গুপ্টি ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লাল বাদশা ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আবদুর রশিদ ছৈয়ালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১০টি মাদকের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়ে ফরিদগঞ্জের গুপ্টি ব্রিজ এলাকায় গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে বাদশা গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১১১ পিস ইয়াবা, ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভায় দু’পক্ষের গোলাগুলিতে সুমন বিশ্বাস (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন জানান, রোববার রাত পৌনে ২টার দিকে মীরকাদিম পৌরসভার মুড়মা এলাকায় দুই গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলিতে সুমন বিশ্বাস (কানা সুমন) গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। নিহত সুমন মাদকসহ ২০-২৫টি মামলার আসামি। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র (ছুরি) ও বিপুল পরিমাণে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহত সুমন মাদকসহ ২০ থেকে ২৫টি বিভিন্ন মামলার আসামি।

সোমবার (২৮ মে) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিস্তারিত অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় দু'দল মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত ২টার কিছু পরে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে জাড়গ্রাম নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, রাত ২টার দিকে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে জাড়গ্রাম এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২০ বোতল ফেনসিডিল ও ১টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি।

পিরোজপুর

পিরোজপুরে পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় ডিবি ও থানা পুলিশের ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে উত্তর কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে মো. অহিদুজ্জামান (৪০) নামে এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পিরোজপুর ডিবি পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের টোনা ব্রিজ সংলগ্ন কৈবর্তখালী গ্রামে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে গেলে সেখানে অহিদুজ্জামানের সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে অহিদুজ্জামানকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে দুই সদস্য আহত হলে ডিবি পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় অহিদুজ্জামান পালাতে গেলে ডিবি পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ডিবি পুলিশ ১টি পাইপ গান, ৫ রাউন্ড গুলি, ২টি দা, ১৭৫টি ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা, অস্ত্র তৈরি ও মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে। নিহত অহিদুজ্জামান স্বরুপকাঠী উপজেলার দক্ষিণ কৌরিখাড়া গ্রামের মৃত আ. রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাসী, অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে রাত ২টার দিকে মাদক উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মছুয়া এলাকার খায়ের গনিপাড়া গ্রামে গেলে স্থানীয় ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৩৬) ও তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সে সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মিজানুর রহমান মারা যায়। এতে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ৬ সদস্য গুরুতর আহত হন।

মিজানুর মঠবাড়িয়া আঞ্চলিক ডাকাতদের নেতা ও স্থানীয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে জানায় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার বাঁকালে দুই মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি মাদক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে নিহত হয়েছেন তারা।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভোমরা গ্রামের আসগর আলির ছেলে খলিলুর রহমান পুটে (৪০) ও শহরের মধুমোল্লাডাঙ্গির এরফান কারিগরের ছেলে এমদাদ কারিগর (৪৮)। 

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার দাস জানান, সোমবার ভোরে খবর আসে সাতক্ষীরা-ভোমরা সড়কের বাঁকালের আগুনপুর গ্রামে রাস্তার পাশে দুটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন মাত্র ১০ গজের ব্যবধানে পড়ে আছে। মরদেহের পাশে একটি ওয়ান শুটার গান, ১০৫ বোতল ফেনসিডিল ও মদের খালি বোতল পাওয়া গেছে।

নাটোর

নাটোরের সিংড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ খালেক উদ্দিন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় একটি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত ২টার দিকে উপজেলার ভাগনাগরকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত খালেক উদ্দিন সিংড়ার বড় চৌগ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।

র‌্যাব-৫ এর সিপিসি-২ কোম্পানি কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি চক্র মাদক লেনদেন করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। এসময় ওই গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালালে মাদক ব্যাবসায়ীরা র‌্যাবের ওপর গুলি চালায়। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে খালেক উদ্দিন নামে এক মাদক ব্যাবসায়ী আহত হন ও অন্যরা পলিয়ে যান। মাদক ব্যাবসায়ীদের ছোড়া গুলিতে দুইজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাদক ব্যবসায়ী খালেককে মৃত ঘোষণা করেন।

পাবনা

পাবনার বেড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইজ্জত আলী প্রামানিক (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি শাটারগান, ৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড গুলির খোসা, ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ৬০ পিস ইয়াবা ও বিস্ফোরিত ৪টি ককটেলের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, নিহত ইজ্জত আলী কুখ্যাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারী ও ডাকাত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজী ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৪টি মামলা রয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, রোববার রাত একটার দিকে বেড়া থানা পুলিশের একটি দল নতুন ভারেঙ্গা ইউপি এলাকায় যাওয়ার পথে দেখতে পায় ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে কাঠের গুড়ি ফেলে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ করে ডাকাত দল। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে পিছু হটে ডাকাতরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইজ্জত আলী নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বেড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এমবিআর/এফএ/পিআর