কুয়াকাটায় পর্যটক কম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ১৮ জুন ২০১৮

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য পৃথিবীর একমাত্র সৈকত। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন কুয়াকাটায়। তবে এবার ঈদে সরকারি ছুটি কম থাকায় এবং বর্ষা মৌসুম হওয়ায় গত বছরের থেকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম।

তবে দূর-দূরান্ত থেকে সমুদ্রের বিশালতা দেখতে অনেকেই এসেছেন কুয়াকাটায়। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে আবার কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে বাস, টেম্পু, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসযোগে দলে দলে পর্যটক আসতে শুরু করেছে কুয়াকাটায়। এখানকার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নারিকেল বীথি, ফয়েজ মিয়ার বাগান, ইকোপার্ক, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল খ্যাত ফাতরার বন, গঙ্গামতি, কাঁকড়ার চর, লেম্বুর চর, লালদিয়া, হরিণবাড়িয়া, সোনাকাটা ইকোপার্কসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।

Patuakhali

এছাড়াও রাখাইনদের ছোট ছোট পল্লীতে থাকা তাঁত শিল্প ও রাখাইন নারীদের সংগ্রামী জীবন, শুঁটকি ও জেলে পল্লীর কর্মব্যস্ত জীবন, বেড়িবাঁধ ঘেষা কুয়াকাটার প্রাচীন কয়াটির সামনের সীমা বৌদ্ধ মন্দির ও মিশ্রিপাড়ার বৌদ্ধ মন্দিরের দৃশ্য দর্শনার্থীরা মুঠোফোনে বন্দী করছেন।

পুরান ঢাকা থেকে আসা আঁখি বলেন, আমি এর আগে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় আসিনি। আমার কাছে মনে হয় কুয়াকাটা বেস্ট। বিস্তৃত বেলাভূমির একপাশে সাগর আর আরেক পাশে সবুজে ঘেরা মনোরম প্রকৃতি।

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা সুমন বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম। দেশের মধ্যে এত সুন্দর একটা জায়গা আছে তা জানতাম না। কেউ না আসলে বুঝতে পারবে না।

কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্টের (ম্যানেজার অপারেশন) গোলাম মোরশেদ খান বলেন, এবার ঈদে সরকারি ছুটি কম থাকায় এবং বর্ষা মৌসুম হওয়ায় গত বছরের থেকে এবার পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম।

Patuakhali

কুয়াকাটার খাবার হোটেল ব্যবসায়ী সাবের আহম্মেদ ভূঁইয়া বলেন, এবার ঈদের প্রথম দিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম। আর পর্যটক কমে যাওয়ায় পর্যটন ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা।

জেল প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মো. মাছুমুর রহমান বলেন, ঈদে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় না করার জন্য পরিবহন সেক্টরগুলোতে অনুরোধ করা হয়েছে। আর পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত পর্যটকরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে পরিবার-পরিজন নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।