নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ১৮ জুন ২০১৮

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গতকাল রোববার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহতের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই অর্থ তুলে দেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, নিহতদের পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা, রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ৮ জনের পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা ও সৈয়দপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনকে ৫ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন ভুইয়া ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারী জেলা সদরের চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের নতিবাড়ি ও আরাজী দলুয়া পাশাপাশি দুই গ্রাম। ঈদ আনন্দ শেষ না হতেই সড়ক দুর্ঘটনায় ওই দুই গ্রামে সাত সন্তান হারানোর ঘটনায় চলছে শোকের মাতম। ওই শোকের মাতম সেখানেই থেমে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা ও টুপামারী ইউনিয়নের কিষামত দোগাছি গ্রামেও। একই দুর্ঘটনায় ওই দুই গ্রামের নিহত হয়েছেন দুইজন। মোট চার গ্রামে নিহতের সংখ্যা ৯ জন।

নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার সকালে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে একটি পিকআপ (নীলফামারী-ন-১১-০০০৭) ভাড়া করে এলাকার ২৭ জন কিশোর, তরুণ এবং যুবক বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যায়। ঘুরাফেরা শেষে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী থেকে বাড়ি ফেরার পথে সৈয়দপুর বাইপাস সড়কে ধলাগাছ নামক স্থানে পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে পিকআপটি। এ সময় ছিটকে পড়ে পিকআপের চাপায় ঘটনাস্থলেই নয় জনের মৃত্যু হয়। আহত ১১ জনকে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। তাদের মধ্যে আটজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তিনজন সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার জানান, দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ৯ জনের মরদেহ নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে সোমবার ভোরে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান পাশা বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আহত এবং নিহতদের মধ্যে কেউ বাদী না হলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপটি থানা হেফাজতে রয়েছে।

চওড়াবড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, সোমবার দুপুরের মধ্যে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত ৯ জনের মধ্যে তার ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামের সাতজন রয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম জাগো নিউজকে জানান, বিকেলে হতাহতদের পরিবারের কাছে তিনি নিজে গিয়ে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন। আগামীতে যাতে এ রকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জাহেদুল ইসলাম/আরএআর/পিআর