ভাঙন চিন্তায় ঘুম হারাম শাহজাদপুরবাসীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৮

 

যমুনা নদীর ভাঙনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ডুবে গেছে শাহজাদপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের মানুষ সরাসরি আর সড়ক পথে যাতায়াত করতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে এখন একমাত্র ভরসা নৌকা।

ইতোমধ্যেই শাহজাদপুর উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে রবিন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন সড়কটি। গ্রামের মাঠ-ঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে কৃষকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। ফলে বাজারে গো-খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুযোগ নিচ্ছেন প্যাকেট খাদ্যের বিক্রেতারা। বস্তা প্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। আর এই পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উপজেলার এসব গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে।

sirajganj2

গত এক সপ্তাহে ভাটপাড়া এলাকার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৫টি স্থানের অন্তত ১ হাজার ফুট এলাকার সিসি ব্লক ও জিও টেক্সপেপার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছরের ভাঙন এলাকা মেরামত না করায় এবং এ বছর এখনো ভাঙনরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি, সোনাতুনি, খুকনি ও জালালপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৭টি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যেই এসব গ্রামের অন্তত ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, ৫শ বিঘা আবাদি জমি ও ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন কবলিত আলমাস হোসেন বলেন, ভাঙনের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। ৮ বার বাড়ি ভেঙেছে। প্রতিবারই সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবারও যদি বাড়িঘর যমুনার পেটে চলে যায়, তাহলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।

sirajganj2

পোতাজিয়া ইউনিয়নের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার ভোরে রবিন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় শাহজাদপুর এলজিইডি অফিসের প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা জলে গেছে। এছাড়া উপজেলার পোতাজিয়া, কায়েমপুর, গাড়াদহ ও রূপবাটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল হুসাইন খান বলেন, ভাঙন এলাকার আশপাশে ফাঁকা কোনো স্থান না থাকায় নদী ভাঙনের শিকার এসব মানুষকে দূর-দূরান্তে গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। তারপরও এসব মানুষের তালিকা তৈরি করে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, টাকার সংকুলান না থাকায় আপাতত বাঁধ রক্ষায় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :