আ. লীগ নেতার নেতৃত্বে থানায় আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৮

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী থানায় হামলা চালিয়ে মারপিট আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২ নেতাসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলের দিকে উপজেলা সদরে ধুনট থানায় এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের ফজর আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ১২ জুলাই দুপুরের দিকে বিবাদমান সীমানায় ফজর আলী নলকূপ স্থাপন করছিল। এসময় আনোয়ার হোসেন বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল এবং ফজর আলী ও তার স্ত্রী অবিরন নেছা ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে শনিবার রাতে আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল্লামা ইকবাল জিহাদের অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রের্কডভুক্ত হয়। এরপর রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আসামি ফজর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু ফজর আলীর অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড না করায় তার পক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

রোববার ফজর আলীর পক্ষ নিয়ে এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও ক্রীড়া সম্পাদক আবু হানিফ গ্রামের মসজিদের মাইকে প্রচার দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে। এরপর তারা থানার প্রধান ফটকে পৌঁছে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে থানা থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এসময় মারপিট মামলার আসামি এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান (৪০) ও ক্রীড়া সম্পাদক আবু হানিফ (৩৫), ফজর আলী (৩৪), নবীর উদ্দিন (৩২), গোলাম সরোয়ার (৫০), নাজমুল হোসেন (২৪), সুমন ইসলাম (২২), শিরিন আকতার (২৫), চাঁন মিয়া (৬০) ও শামসুল হককে (৫৫) আটক করা হয়।

রাতে আটকদের মধ্যে গোলাম সরোয়ার, নাজমুল হোসেন, সুমন ইসলাম, শিরিন আকতার, চাঁন মিয়া ও শামসুল হককে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যান্য আসামিদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে। থানা ঘেরাওয়ের সংবাদ পেয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। সাধারন মানুষকে ভুল বুঝিয়ে থানা ঘেরাও করানো হয়েছিলো।

ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ তারেক হেলাল বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে থানা পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরে মুচলেকা দিয়ে ৬ জনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। তবে মারপিট মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ধুনট থানা পুলিশের ওসি খান মো. এরফান বলেন, গ্রামবাসী ভুল বুঝে থানায় এসে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছিল। এসময় মারপিট মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া যারা আসামি নয়, তাদের মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

লিমন বাসার/এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :