স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বিষপান, অতঃপর...
নীলফামারী জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে বিষপানে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী আদুরী বেগমের (১৮) মৃত্যু হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বামী আজিনুর রহমানের (২২) মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীরা জানায়, সকাল ৯টার দিকে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বিষপান করে। তাদেরকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সোয়া ১০টার দিকে স্ত্রী আদুরী বেগমের মৃত্যু হয়। স্বামী আজিনুর রহমানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ১০ মাস আগে উত্তরাশষী কাছারীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে নির্মাণশ্রমিক আজিনুর রহমানের সঙ্গে একই ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের মেয়ে আদুরী বেগমের বিয়ে হয়। আজিনুর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কাজে যাওয়ার সময় স্ত্রী আদুরীকে তার বাবার বাড়িতে রেখে যেতেন। ১৫ দিন আগে ঢাকা থেকে ফিরে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আনেন। তিনদিন আগে আবারও স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান এবং সেখান থেকে স্ত্রীর নানির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরেন। রোববার সকালে শোবার ঘরে বিষপান করে দুইজনেই অসুস্থ হন।
আদুরীর চাচা বাবু হোসেন বলেন, আদুরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে আসি। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব, কলহ ছিল না। তবে লোকমুখে শুনেছি, শনিবার আদুরীর নানির বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পর দুইজকেই গালমন্দ করেছেন আজিনুরের বাবা-মা।
নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতা বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রী বিষপান করে অসুস্থ হলে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদুরীর মৃত্যু হয়। আজিনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী আদুরী এবং রংপুরে স্বামী আজিনুরের মৃত্যু হয়েছে। আদুরীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রংপুর থেকে আজিনুরের মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।
জাহেদুল ইসলাম/এএম/পিআর