সুদের টাকার দিতে না পেরে ভ্যান চালকের আত্মহত্যা
সুদের টাকা নেয়ার পর দ্বিগুনের বেশি টাকা প্রদানের পরও সেই ঋনের টাকার চাপে আব্দুর আজিজ (৪৫) নামে এক ভ্যান চালকের বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ছাতনাই গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে।
শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে পাঠায় পুলিশ। এর আগে শুক্রবার বিকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে ছাতনাই গ্রামে নিজ বাড়িতে বিষপান করে ভ্যান চালক আজিজ।
এলাকাবাসী অভিযোগ, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্যছাতনাই গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৩০) সুদের ব্যবসা করে। তিনি স্বর্ণ, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, বাড়িসহ নগদ টাকা চড়া সুদে দিয়ে সাদা স্টামে স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, স্বাক্ষরিত চেক, ২ কপি ছবি নিয়ে থাকেন। এলাকার শতাধিক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে তিনি সুদের ব্যবসা চালিয়ে আসলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।
মৃত্ আব্দুর আজিজের স্ত্রী হাফিজা বেগম বলেন, ৭ মাস আগে তার স্বামী সুদের উপর সালেহার নিকট ২০ হাজার ও হাবিবুল্লাহ নিকট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল। ইতোমধ্যে সুদ ও আসলের ৪৫ হাজার টাকা দিয়াছে। আমরা বলেছি আরও কিছু টাকা দিব কিন্তু তারা রাজি হয়নি। হাবিবুল্লাহ সুপারী বাগানে ৮ শতক জমি দাবি করেন। টাকা না দিলে পাওনা না দিলে বাড়ি থেকে তিনি বের হবে না। পরিবারের লোকজন বারবার অনুরোধ করার পরও তারা রাজি না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে তার স্বামী মানসন্মান রক্ষার কারণে সকলের অজান্তে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। আমার স্বামীকে যারা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, সুদের টাকার কারণে আব্দুর আজিজকে বিষপান করতে বাধ্য করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, এ বিষয়ে ডিমলা থানায় ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শনিবার জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগে পেলে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করা হবে।
জাহেদুল ইসলাম/আরএ/আরআইপি