‘খাস’ হয়ে গেছে ডিমলার শত শত একর জমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০১৮

নীলফামারীর ডিমলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় চরম বিপাকে পড়েছেন জমি মালিকরা। মালিকদের বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার জমির মাঠ পর্চা বিতরণ স্থগিত করতে হয়েছে।

জানা গেছে, ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের উত্তর ঝুনাগাছ চাপানির ২টি মৌজার জমির মালিকানা থাকার পরও একটি চক্র খাস খতিয়ানে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করেন। মাঠ পর্যায়ে জরিপ না করেই তারা ১৯৮২ সালে ১৯৮৬-৮৭ সালের মাঠ জরিপ প্রতিবেদন প্রদান করেন। এতে জমির মালিকানা, সরকারি খাজনা ও দলিল থাকার পরও এলাকাটির সব জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে ডিমলা সেটেলম্যান্ট অফিসের অফিস সহায়ক কাগজ বিতরণ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে বিষয়টি দেখে এলাকার শত শত জমি মালিক হট্টোগোল শুরু করেন। পরে ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে জমির মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কাগজ বিতরণ স্থগিত করেন।

জানা যায়, ১৯৮২ সালের মাঠ জরিপ সম্পন্ন করা হলে সেটি ২০১৮ সালে সরকারিভাবে প্রিন্ট হয়ে আসে। প্রতিটি জমির মালিকের কাছ থেকে হোল্ডিং নম্বরের জন্য ১০০ টাকা ও এলাকার ম্যাপের জন্য ৫শ করে টাকা নেন ডিমলা সেটেলম্যান্ট অফিসের সহায়ক আনোয়ার হোসেন।

Dimla1

কিন্তু সরকারিভাবে ১৯৮২ সালে যেভাবে জরিপ করা হয়েছে সেভাবে প্রিন্টের পর নতুন মাঠ পর্চা বিতরণের সময় দেখা যায় সব জমি খাস খতিয়ানে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হট্টোগোল সৃষ্টি ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কাগজ বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হয়।

উত্তর ঝুনাগাছ চাপানি মৌজার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হাসানুর রহমান জানান, ১৯৮২ সালে তার বাবার নামে ৩০ বিঘা জমি থাকলেও বর্তমানে মাঠ জরিপে জমি রয়েছে মাত্র ৮ শতক। অবশিষ্ট জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই এলাকার সেকেন্দার শাহ কলেন, বর্তমানে তার ২১ বিঘা জমি থাকলেও এক শতক জমিও মাঠ জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এলাকার রাস্ত ঘাট, আবাদি জমি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠাসহ কয়েকশ একর জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮২ সালের জরিপের বিরুদ্ধে ৩০, ৩১ ধারায় আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এলাকার জমির মালিকদের সে সুযোগ দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি মহল এলাকায় শত শত একর জমি মাঠ জরিপ না করে ডিমলায় বসে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের পর নতুন করে মাঠ জরিপ করার দাবি করেন তিনি।

জাহেদুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।