বিয়ের গাড়ি দুর্ঘটনায় বর-কনে আইসিইউতে, গ্রামজুড়ে শোক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৮

পুরো বাড়ি বিভিন্ন সাজে সজ্জিত। বৌভাতের অনুষ্ঠান হলো শেষ। বর-কনে বিদায় দেয়া হলো হাসিমুখে। কিন্তু কে জানতো এটাই সবার শেষ দেখা। কিছুক্ষণ পরই খবর এলো এক সড়ক দুর্ঘটনায় চলে গেল সাত স্বজনের প্রাণ। মুহূর্তেই বিয়েবাড়িতে নামে শোকের মাতম।

এ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর-কনে এখন হাসপাতালের আইসিইউতে। বিয়েবাড়িতে বরের বৃদ্ধা মাকে বাকরুদ্ধ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি কোনো কথা বলতে পারছেন না।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল মালোপাড়ার কৃষ্ণ বর্মনের ছেলে রাজিব বর্মন রাজু নরসিংদী থেকে নববধূ নিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরে সোনাইমুড়ি ইটাখোলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৭ জন। এর মধ্যে বর-কনে দুইজন বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ষাটনল মালোপাড়ার স্থানীয় ইউপি সদস্য ফুলচান বর্মন।

দুর্ঘটনায় নিহত হন চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল মালোপাড়া এলাকার সুজন বর্মন (৩২), তার স্ত্রী ভুলুরানী মিতু (২৬) তাদের মেয়ে স্নিগ্ধা বর্মন (৭)। এরা বরের বোন-বোনের জামাই ও ভাগ্নি।

Chandpur-Pictur-(2)

এছাড়া নিহত হয় আড়াইহাজারের ধুুপতারা এলাকার নির্মল বর্মনের মেয়ে বৃষ্টি বর্মন (৬) এবং নরসিংদীর নবোয়ারচর এলাকার সুবল বর্মনের মেয়ে প্রান্তিকা বর্মন (৫)। বাকি দুইজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনায় বর রাজিব বর্মন রাজু (২৫) ও কনে রমা বর্মনসহ (২০) অন্তত ১৭ জন আহত হন। তারা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। আহতদের প্রথমে নরসিংদী হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার রাতে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল মালোপাড়া এলাকার রাজিব বর্মন রাজুর সঙ্গে নরসিংদীর মরজাল ইউনিয়নের নভোয়ারচর এলাকার রুমা বর্মনের বিয়ে হয়। বরযাত্রীর চারটি মাইক্রোবাসের মধ্যে বর-কনের গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এমন খবর শুনা মাত্রই বর-কনের বাড়িতে নামে শোকের মাতম। বাকরুদ্ধ হয়ে যান বরের বৃদ্ধা মা। পড়ে কান্নার রোল। তাদের কান্না দেখে কাঁদেন গ্রামবাসীও। স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন সবাই।

ইকরাম চৌধুরী/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :