বিউটি হত্যা মামলায় বাবাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮
ফাইল ছবি

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। বিউটির বাবা সায়েদ আলী ও প্রতিবেশী চাচা ময়না মিয়াসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, বিউটি হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশের একটি আলোচিত ঘটনা। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত হত্যকারীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। যেহেতু ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তাই এ মামলার তদন্ত কাজ অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় পুলিশকে। অনেক সতর্কতার সঙ্গে এটি তদন্ত করতে হয়েছে। কোনো ঘটনায় বাবা যদি হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেক্ষেত্রে খুনি সাসপেক্ট করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, একই সঙ্গে বিউটিকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবুল মিয়া ও সহযোগী হিসেবে তার মাকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পৃথক চার্জশিট দেয়া হয়েছে। যেহেতু বাবুল মিয়া তাকে ধরে নিয়ে ১৭ দিন আটক করে রেখে ধর্ষণ করেছে এবং বিউটির বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল তাই এ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। আর বিভিন্ন সময় বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবি সালিশে ছেলের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় তাকেও সহযোগী হিসেবে উক্ত মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। এ ঘটনায় ২ মার্চ আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন তার বাবা সায়েদ আলী। এরপরই বিউটিকে তার নানার বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ১৬ মার্চ রাতে সেখান থেকে তাকে বাবা সায়েদ আলী নিয়ে এসে তুলে দেন খুনি ময়না মিয়ার হাতে। ময়না ও কামাল তাকে বাবার সামনেই হত্যা করে হাওরে লাশ ফেলে রাখে।

১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের হাওরে পরে থাকা মরদেহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার করা হয় বাবুল মিয়া ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে। পরবর্তীতে বিউটির নানি ফাতেমা বেগম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার মোটিভ ঘুরিয়ে দেন।

তিনি স্বীকার করে নেন বিউটির বাবাই খুনের অন্যতম হোতা। সায়েদ আলীই তাকে নানার বাড়ি থেকে বাবুলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার কথা বলে নিয়ে যান। তিনিই রাতে মেয়েকে খুনিদের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে বিউটির বাবা সায়েদ আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সব স্বীকার করেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে আটক করা হয় ময়না মিয়াকে। তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরবর্তীতে বিউটির বাবা সায়েদ আলীর দায়ের করা হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। আর শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মানিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বিউটির বাবা সায়েদ আলী, ময়না মিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে উক্ত মামলায় রোববার আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। মামলায় ২১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।