ফেনীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভাসমান বীজতলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফেনীতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে ৬টি স্থান নির্বাচন করে এ ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বীজতলাগুলোতে এখন চারা গজিয়েছে। এসব বীজতলা তৈরি পদ্ধতি জানতে ও পরিদর্শন করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক কৃষকরা ছুটে আসছেন। মূলত বন্যা ও আপদকালীন সময়ে ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত হালিচারাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বীজ সংকট মেটায় বলেই এ পদ্ধতিতে আগ্রহ বেশি কৃষকদের।

সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুরে চর এলাকার কৃষক নূর মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এবার প্রথম ভাসমান বীজতলা তৈরি করে ছিলেন।

বীজতলা তৈরির পদ্ধতির সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে পানিতে কলা গাছ বেঁধে ভেলারমত করে নিতে হবে। তারপর ওপরে কচুরিপানা দিয়ে মাঝামাঝি উঁচু-নিচু স্থানগুলো পূর্ণ করার পর মাটি সমান করে বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। ১৫ থেকে ২০ দিনে চারা পরিপূর্ণতা লাভ করবে। গত কয়েক বছর আগাম বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যা নেমে যাওয়ার পর হালিচারার ব্যাপক সংকটে পড়ে কৃষকরা। এ সময় ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত হালিচারাগুলো কৃষকদের চাহিদা মেটায়। এই ভাসমান হালিচারার দাম একটু বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আপদকালীন সময়ে এ চারা তাদের জমিতে বপন করতে হাঁটে বাজারে খোঁজে ফিরেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মো. সাইফুদ্দিন জানান, আমাদের দেশে দুটি পদ্ধতি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়ে থাকে। প্রথমত বন্যাকবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রয়োজনীয় সময় না থাকে। তবে বন্যার পানি, নদী, বিল, পুকুর, ডোবা বা খালের পানি ওপর কলাগাছের ভেলায় হোগলার চাটাই দিয়ে সেখানে মাটির প্রলেপ কিংবা বাঁশ বা বাঁশের চাটাইয়ের মাচা দিয়ে তৈরিকৃত বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমাণ পুকুরের তলার মাটির পাতলা কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলা তৈরি করা হয়।

দ্বিতীয়ত বিল, ঝিল বা নিচু জায়গায় কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা করা যায়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে কচুরিপানাগুলো স্তূপ করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে বেড আকৃতি করা হয়। বেডের চারপাশে জড়িয়ে থাকা বাড়তি কচুরিপানাগুলো দা দিয়ে কেটে সোজা করে নিতে হয়। অতঃপর বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে সমান করে বীজতলা তৈরি করা যায়। বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সেজন্য ভাসমান বীজতলা বেডকে দড়ির সাহায্যে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখতে হবে। এছাড়া হাঁসের আক্রমণ থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য জাল দিয়ে বেড়া দেয়া উত্তম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারাগুলো বিপদকালীন সময়ে কৃষকদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করে। ফেনীতে এবার প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এটি তৈরিতে অতিরিক্ত খরচ তেমন না পড়ায় আগামীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি আরও বৃদ্ধি পাবে। ফেনীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা বসাতে কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

সম্প্রতি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলা পরিদর্শন করেন। এ সময় খামার বাড়ী ঢাকার ক্রপ উইং ও মনিটরিং কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার, জসিম উদ্দিন, মামুনুর রহমান ভূঞা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাশেদুল হাসান/আরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।