বিমানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়ে কোটি টাকার জমি দখলে মরিয়া
লক্ষ্মীপুরে তিন পরিবারের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিতে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সদর উপজেলার চরশাহীর নুরুল্যাপুর গ্রামের ওই পরিবারগুলোর সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়, তিন পরিবারের জমি দখলে নিতে না পেরে বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে শিমুল চক্রবর্তী একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেন। তিনি নিজেকে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের সাবেক ব্যক্তিগত প্রতিনিধি (পিএস) দাবি করছেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না।
এর আগে ওই পরিবারগুলোকে কয়েকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে স্বপন কুমার দাস ও তার ছেলে প্রদীপ কুমার দাস। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নুরুল্যাপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দাস প্রায় ৪ বছর আগে সাড়ে ১৭ শতাংশ জমি নুরুল ইসলাম ও ২১ শতাংশ জমি আবদুল রশিদের কাছে বিক্রি করেন। তারা ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। জমি কেনার পর থেকেই স্বপন কুমার দাসসহ সহযোগীরা বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এছাড়া তারা মনোরঞ্জনের ৪৯ শতাংশ জমি দখলে নিতে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে একটি মামলা করেন। কিন্তু মামলার রায়ে মনোরঞ্জন জমির মালিক গণ্য হন। চক্রটি ওই রায়ের বিপক্ষে আপিল করেছে বলে প্রচার করছে।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি মনোরঞ্জন দাস থেকে জমি কিনেছি। এরপর থেকেই স্বপন দাস বিভিন্নভাবে আমাকে নির্যাতন করে আসছে। সম্প্রতি আমার জমি দখলে নিতে স্বপন লোকজন নিয়ে আমাকে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে আমার পরিবারের সদস্যদেরকেও মারধর করে। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে শিমুল চক্রবর্তী আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করে।
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বপন কুমার দাস বলেন, আমরা অন্যায়ভাবে কারো জমি দখল করব না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার মোহাম্মদ বলেন, স্বপন জোর করে পরিবারগুলোর জমি দখলের চেষ্টা করছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার এ নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করলেও স্বপন কোনো দলিলাদি দেখাতে পারেনি। তবুও তারা ওই জমিগুলো দখলে নিতে মরিয়া।
কাজল কায়েস/এএম/পিআর