মনোনয়ন প্রার্থীদের আমলনামা নেত্রীর হাতে পৌঁছেছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগই। দলের ভেতর একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। এর সুযোগ নেয় অন্য দল। তাই কোন্দলে জড়িতরা দলীয় মনোনয়ন পাবে না। জনপ্রিয়তা যার তাকেই মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। আর যেই মনোনয়ন পাক তার পক্ষে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। মনোনয়ন প্রার্থীদের আমলনামা নেত্রীর হাতে পৌঁছেছে। জনমত জরিপে যিনি এগিয়ে আছেন তিনিই মনোনয়ন পাবেন।

সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সড়ক পথে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে চকরিয়া ও ঈদগাঁওতে পৃথক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

চকরিয়ার শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাসটার্মিনালে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ও কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় রাত পৌনে ৯টায় পৃথক বক্তব্য রাখেন সেতুমন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ২০০১ পরবর্তী বিএনপি জোটের আমলে রক্তের বন্যা বয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরে থাকতে দেয়নি। গরু-ছাগল পর্যন্ত লুট হয়েছে। ৫ বছরে ১০টি ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি। পড়তে পারেনি মা-বাবার জানাজাও। জানাজা পড়তে এসে গ্রেফতার হতে হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে ২০০১ সালের মতো ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জ্বালাও-পোড়াও করেও বিএনপি ক্ষমতা দখল করতে ব্যর্থ হয়ে শুধু নালিশই করছে। কিন্তু ফখরুল সাহেবরা বুঝে গেছে মিথ্যার উপর ভর দিয়ে আর ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা ক্লান্ত হয়ে এখন ঝিমুচ্ছে। অনুষ্ঠানে গেলে ঝিমায়, সংবাদ সম্মেলনে গেলেও ঝিমায়। ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে শুধু বিদেশে নালিশ করা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই।

মন্ত্রী বলেন, একাদশ নির্বাচনে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। যার প্রমাণ চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়া-ঈদগাঁওর পথে পথে মানুষের ঢল। এসব দেখে বিএনপি এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি নেতারা জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।

আমি বলবো, বি.চৌধুরী, ড. কামাল, মান্না, মঈনুল ও ফখরুলরা যুক্তফ্রন্ট নামে ২০-৩০দল করে চেষ্টা করে দেখুন ঢাকায় চকরিয়া-ঈদগাঁও-চুনতির মতো একটি সমাবেশ করতে পারে কিনা। তারা ঢাকাতেও এর তিন ভাগের একভাগ লোক জড়ো করতে পারবে না।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলমের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানসহ প্রমূখ।

আর ঈদগাঁওতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক মাদুর পরিচালানায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি নজিবুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহদুর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয় ও সম্পাদক মোরশেদ হোছাইন তানিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে দুপুরের পর থেকে নেতাকর্মীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দলে দলে মিছিল সহকারে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :