মৃত শিশুকে সদর হাসপাতালে রেফার্ড
কক্সবাজার শহরে বেসরকারি একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দগ্ধ এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালে হামলা চালান।
জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিল এলাকার মাহমুদুল হকের দেড় বছর বয়সী ছেলে রাইয়ান আগুনে দগ্ধ হলে দুদিন আগে তাকে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক নূরুল করিম ও মেজর ইমরানের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছিল। সেখানে বুধবার সন্ধ্যায় সে মারা যায়।
শিশুটির নানা আবদুস সালাম জানান, হাসপাতালের নিয়মিত ডিউটি চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুটির সঠিক দেখভাল করেনি। মঙ্গলবার থেকে শিশুটির অস্থিরতা বেড়ে যায়। সব সময় ছটফট করত। বিষয়টি হাসপাতালের নিয়মিত কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের জানানো হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। বুধবার সন্ধ্যার আগে শিশুটি হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। এটি জানাতে গেলে নার্সরা বলেন, ঘুমের ওষুধ দেয়ায় এরকম হয়েছে। জোর করে দেখতে বলার পর রাইয়ানকে দেখে তারা উন্নত চিকিৎসার কথা বলে সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নিয়ে গেলে প্রায় দু’ঘণ্টা আগে রাইয়ান মারা গেছে বলে জানান সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক।
হলদিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ঘটনা শুনে হাসপাতালে আসেন। তিনি জানান, শিশুটি মারা যাওয়ার দু’ঘণ্টা পর ছাড়পত্রে লেখা হয়েছে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।’ যারা দায়িত্বে ছিলেন সবাই অবহেলা করেছেন সেটা স্পষ্ট।
ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহ আলম মুঠোফোনে বলেন, শিশুটি আদৌ অবহেলায় মারা গেছে কিনা নিশ্চিত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আরআইপি