পূবালী ব্যাংকে ভুয়া হিসাব খুলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের হিসাব রক্ষক আমানুল্লাহর (৫৩) সহায়তায় সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে কুড়িগ্রামে একটি ভুয়া হিসার নাম্বার খুলে পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ৬শ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতারক সোহরাব আলী (৩৭) ও আজহারুল ইসলাম মানু (৫১) বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারি পরিচালক নূর আলম মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধূপুর খামার গ্রামের এছাহাক আলীর ছেলে সোহরাব আলী প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার পরিচয়ে মেসার্স সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর হিসেবে জাল লাইসেন্স করে কুড়িগ্রাম পূবালী ব্যাংকে একটি ভূয়া হিসাব নম্বর খোলেন। ২০১৬ সালের ১১ জুলাই জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কাছ থেকে চেক নং-৭৩৮৪৩৭ এর বিপরীতে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬শ টাকা উক্ত ভুয়া অ্যাকাউন্টে জমা পূর্বক একই তারিখে পুরো টাকা উত্তোলন করে চাচাতো ভাই আজহারুল ইসলাম মানুকে প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ ভবণ নির্মাণ কাজের জন্য জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর জোন মেসার্স সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ প্রদান করে। উক্ত কাজের বিপরীতে মেসার্স সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম যমুনা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেন। কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের কাজ শেষে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিল প্রদানের জন্য সুপারিশ করলে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর যমুনা ব্যাংক ঢাকার মালিবাগ শাখায় মেসার্স সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামীয় হিসাব নম্বরে সমস্ত বিল পরিশোধের নিশ্চয়তা পত্র প্রদান করে। কিন্তু শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের হিসাব রক্ষক আমানুল্লাহ সকল বিল পরিশোধ করলেও ৯ম বিলের ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬শ টাকা কাজ সমাপ্তীর পর যমুনা ব্যাংক মালিবাগ শাখার নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র মেসার্স সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নাম উল্লেখ করে বিল পাশ করে। পরবর্তীতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের হিসাব রক্ষক আমানুল্লাহ উপরোক্ত চেকটি সোহরাব আলীর চাচাতো ভাই আজহারুল ইসলাম মানুকে প্রদান করে। সোহরাব আলী, আজহারুল ইসলাম ও হিবাব রক্ষক আমানুল্লাহ পরস্পর যোগসাজসে ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আজহারুল ইসলাম মানু বলেন, আমার ভাই সোহরাব আলীর পরামর্শে কুড়িগ্রাম পূবালী ব্যাংকে মেসার্স সান ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। সেখানে আমি সনাক্তকারী ছিলাম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহাকারি পরিচালক নূর আলম জানান, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় কুড়িগ্রাম থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন মামলাটি তদন্তের ব্যবস্থা করবেন।

মো. নাজমুল হোসেন/আরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।