‘তিতলি’ মোকাবেলায় প্রস্তুত কক্সবাজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৮

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাত মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে এক জরুরি সভা বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় ঘূূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবেলায় প্রয়োজনী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তর প্রস্তুত উল্লেখ করে জানানো হয়, উপকূলের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা, তাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থাসহ নানা প্রস্তুতি ইতোমধ্যে রাখা হয়েছে। প্রতি উপজেলা কর্মকর্তাকে মাইকিং করে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সাগরে থাকা জেলার সব মাছ ধরার বোটগুলোকেও।

এডিসি কাজি আবদুর রহমান বলেন, পূর্বের মতো ঘূর্ণিঝড় তিতলিকেও মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি হাতে রেখেছে প্রশাসন। জরুরি অবস্থার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে শুকনো খাবারের।

সভায় কক্সবাজার সদর আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক মাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন, কানিজ ফাতেমা মোস্তাকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কক্সবাজারের সাগরে ঘেরা দ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন ৬ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় এ মাইকিং করা হয়।

কুতুবদিয়ার ইউএনও মনোয়ারা বেগম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৪নং হুঁশিয়ারি সংকেতের প্রেক্ষিতে দ্বীপের সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। সংকেত বাড়লে সাইক্লোন শেল্টারসহ নিরাপদস্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হয় স্থানীয়দের।

একই ভাবে, কক্সবাজার সদরের পোকখালী, গোমাতলী, চৌফলদন্ডী, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, সোনাদিয়া, পেকুয়ার মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী, চকরিয়ার চরণদ্বীপ, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় মাইকিং করে এসব উপকূলে বসবাসকারীদের সতর্ক ও নিরাপদে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।