স্ত্রীর জন্য ভাগ্নিকে নিয়ে গেলেন খালু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা থেকে আয়েশা আক্তার নামের ১২ বছরের এক অপহৃত মাদরাসাছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অপহরণের ৩৩ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুগদাপাড়া থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অপহরণকারী কবিরাজ হারুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, বাবার ওপর প্রতিশোধ ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সেবার জন্য আয়েশাকে অপহরণ করেছিলেন তার খালু।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর দশমিনা উপজেলার চাঁনপুরার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামের মেয়ে আয়েশা আক্তার মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনার পর আয়েশার বাবা থানায় একটি জিডি করেন।

ঘটনার ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও আয়েশার খোঁজ না পেয়ে দশমিনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন তার বাবা। এরপর আয়েশার খোঁজে মাঠে নামে পুলিশ।

এ ঘটনায় হারুন নামে এক কবিরাজকে সন্দেহ করে পুলিশ। কবিরাজ হারুন ঠিকানাবিহীন হওয়ায় রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ আটটি জেলায় অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু এসব স্থানে আয়েশার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুগদাপাড়া থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী কবিরাজ হারুনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কবিরাজ হারুন জানিয়েছেন, এর আগে একাধিক বিয়ে করেছেন তিনি। ছয় মাস আগে আয়েশার খালা শাহনাজকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। শাহনাজকে বিয়ের সময় এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না আয়েশার বাবা সাইদুল। আয়েশাকে অপহরণের কয়েকদিন আগে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে আসেন। এর কয়েকদিন পর আয়েশাকে অপহরণ করেন। কিন্তু হারুনের প্রকৃত ঠিকানা কেউ জানত না। বাবার ওপর প্রতিশোধ ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সেবার জন্য আয়েশাকে অপহরণ করেন হারুন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, হারুন দীর্ঘদিন দশমিনা এলাকার গ্রামের সহজ সরল মানুষদের ঝাড়-ফুঁক দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন। হারুনের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্ত্রী রয়েছে। তবে ভাগ্নি আয়েশা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে কিনা সেজন্য মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :