যুবলীগের মনোনয়নপত্রের দাম লাখ টাকা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮

দীর্ঘ এক যুগ পর ভৈরব পৌরসভা যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর (সোমবার) স্থানীয় জিল্লুর রহমান মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক লাখ টাকায় মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষণা দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীদের নিকট মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছেন বর্তমান পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি শাহনেওয়াজ গাজী ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক লিটন। এই দুই পদের মনোনয়নপত্রের দাম রাখা হয় এক লাখ টাকা করে। এদিন সভাপতি পদের জন্য ইমরান হোসেন ইমন, মো. জিল্লুর রহমান ও ইকবাল হোসেন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একমাত্র আল-আমিন সৈকত মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

এদিকে মনোনয়নপত্রের দাম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করায় মাহাবুব আলম নামে একজন সভাপতি প্রার্থী টাকার অভাবে মনোনয়নপত্র কিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। মনোনয়নপত্রের দাম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করায় প্রার্থীদের মধ্য অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেশের দলীয় কোনো সন্মেলনে প্রার্থীরা এক লাখ টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনেছে এমন নজির কোথাও নেই।

সভাপতি প্রার্থী জিল্লুর রহমান বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক লাখ টাকা দিয়েই মনোনয়নপত্র কিনলাম।

এ বিষয়ে বর্তমান সভাপতি শাহনেওয়াজ গাজী ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক লিটন বলেন, মনোনয়নপত্রের মূল্য এক লাখ টাকা করা হয়েছে এটি সঠিক নয়। মনোনয়নপত্রের মূল্য পাঁচ হাজার টাকা আর বাকি টাকা সম্মেলনের ব্যয় বাবদ অনুদান নেয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু জানান, লাখ টাকায় মনোনয়নপত্র বিক্রি হচ্ছে কথাটি সত্য নয়, তবে সম্মেলনের খরচ বাবদ হয়তো কিছু টাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী সিরাজ উদ্দিন, বিষয়টি আমি অবগত নই।

একই কথা বলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ।

ভৈরব পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ বলেন, বিষয়টি আমিও জানি না। এ বিষয়ে দলের ঊধ্বর্তন নেতৃবৃন্দ জবাব দিতে পারবেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল বলেন, দলীয় প্রার্থীতায় মনোনয়পত্র বিক্রির নিয়ম গঠনতন্ত্রে নেই। সম্মেলনের দিন যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। ভৈরবে দলীয় কেউ এক লাখ টাকায় মনোনয়নপত্র বিক্রি করলে কাজটা গঠনতন্ত্রবিরোধী।

ভৈরব উপজেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, পৌর যুবলীগের সম্মেলেন হবে অথচ আমি জানি না। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আমাকে অবগত না করেই সন্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি বৃহস্পতিবার রাতে তারা প্রার্থীদের কাছে প্রতিটি মনোনয়নপত্র লাখ টাকা করে বিক্রি করেছেন, যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী। গঠনতন্ত্রে এমন কোনো বিধান নেই। আমি ঘটনার প্রতিবাদ জানাই।

এদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভৈরবে যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্য ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর গেইটে সারা শহর ছেয়ে গেছে। সম্মেলনের দিন পৌর যুবলীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। এ দুটি পদের জন্য ভৈরবে যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্য অনেকেই প্রার্থীতা ঘোষণা করে শহরে পোস্টার ব্যানার লাগিয়েছেন। তারা পদ পেতে প্রচারণাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে ধরনাও দিচ্ছেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

আসাদুজ্জামান ফারুক/আরএ/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :