দুই ডুবুরি দিয়ে চলে আট জেলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সগুলোতে ডুবুরি পদ সৃষ্টি না হওয়ায় গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলায় মাত্র দুইজন ডুবুরি দিয়ে চলছে উদ্ধার কার্যক্রম।

এতে রংপুরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ডুবে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে স্বজন হারানো পরিবারে দীর্ঘ হচ্ছে আহাজারি। ভোগান্তি বাড়ছে উদ্ধার কাজের সংশ্লিষ্ট সবার। তাই বিভাগের প্রত্যেক জেলার ফায়ার সার্ভিসে অন্তত দুইজন করে ডুবুরি দেয়ার দাবি করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

গাইবান্ধা ও রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রংপুরসহ বিভাগের গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলা ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিসগুলোতে ডুবুরি পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও কোনো ডুবুরি নেই। এসব জেলায় সেবা দেয়ার জন্য রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি আছেন মাত্র দুইজন। কোথাও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে ওই দুই ব্যক্তিই আটজেলায় চষে বেড়ান। ফলে তাদেরকে বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে, পেতে হচ্ছে কষ্ট।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৯০ সালে ২৫ জন ডুবুরির একটি ইউনিট ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে তাদেরকে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কোথাও উদ্ধার অভিযানে দুইজন একসঙ্গে যেতে হয়। একা এই কাজ করা যায় না। রংপুর ও রাজশাহীসহ অন্যান্য বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে দুইজন করে এবং ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর ও সদর ঘাটেও যথেষ্ট ডুবুরি রয়েছে।

নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ডুবে কেউ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে প্রথমে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌকা বা স্পিডবোট দিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ সময় টেলিফোন করে ডাকা হয় রংপুরের ডুবুরি দলকে। ডুবুরিরা এলে মূল উদ্ধার কাজ শুরু হয়। রংপুরের দুইজন ডুবুরিকে এই বিভাগের আট জেলায় নদীসহ কোনো জলাশয়ে ডুবে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে যেতে হয়।

gaibandha1

তাই কোনো জেলায় উদ্ধার কাজে থাকাকালীন সময়ে অন্য জেলা থেকে ডাকা হলে তাদেরকে পড়তে হয় বিপাকে। পরে সেখানকার উদ্ধার কাজ শেষ করে যেতে হয় পরের জেলায়। এ জন্য স্বজন হারানো পরিবারে দীর্ঘ হয় আহাজারি। বিপাকে পড়তে হয় সবাইকে। তাই প্রত্যেক জেলায় দুইজন করে ডুবুরি দেয়া প্রয়োজন।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিসগুলোতে ডুবুরি পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাহলে নদীসহ কোনো জলাশয়ে মানুষ ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা যাবে।

রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইউনুস আলী বলেন, প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানকে সাঁতার শেখানো। প্রত্যেক জেলা শহরে দুইজন করে ডুবুরি থাকলে ভালো হয়। কেননা এমনও হয় একদিনে তিন-চারটি জায়গা থেকে কল আসে। তখন সমস্যায় পড়তে হয়। এক স্থানের কাজ শেষ হলে তারপর পাঠাতে হয় অন্য স্থানে। দুইজন ডুবুরি হওয়াতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সমস্যা হয় অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, ডুবুরিদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অন্য বাহিনীর ডুবুরিরা বিশেষ ভাতা পেলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা বেতনের বাইরে কোনো বিশেষ ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা পান না। তাদের উৎসাহিত করার জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিভাগে দুইজন ডুবুরি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

রওশন আলম পাপুল/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।