বলেশ্বরের ভাঙনে স্টিমার ঘাট বিলীন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বলেশ্বর নদের অব্যাহত ভাঙনে বড়মাছুয়ার স্টিমার ঘাটটি বিলীন হয়ে গেছে। এতে ঢাকা ও খুলনা থেকে আসা স্টিমারের যাত্রীদের তীরে উঠতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বলেশ্বরের অব্যহত ভাঙনে স্টিমারের টিকেট বুকিং কাউন্টারসহ তিনটি দোকান যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

গত শনিবার ও রোববারের অব্যাহত ভাঙনে বড়মাছুয়া স্টিমার ঘাটের পন্টুনের সিঁড়ি, তিনটি বসতঘর ও ছয়টি দোকান ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের ট্রলারের মাধ্যমে স্টিমারে উঠতে হচ্ছে।

এদিকে ঘাট সংলগ্ন দোকানের মালামাল হারিয়ে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ও বসত ঘর হারিয়ে তিনটি পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে বড় মাছুয়া স্টিমার ঘাট এলাকা হঠাৎ করে ভাঙনের কবলে পড়লে স্টিমারের পন্টনে ওঠার সিঁড়ি ও তিনটি বসতঘরসহ ছয়টি দোকান বলেশ্বরে বিলীন হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ী হাবিব হাওলাদার (৬০), আ. মালেক (৫০), হানিফ বেপারী (৬৫), জাহাঙ্গীর হাং (৪০), আল আমিন (৩০), বেল্লাল (৩৫), আ. খালেক আকন (৬০), শাহিন (৩৫) ও কৃষকের আইপিএম ক্লাব ঘর সম্পূর্ণ পন্টনের নিচে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

Pirojpur-Mathbaria-Pic

ব্যবসায়ী মালেক খান বলেন, গত ৩০ বছর ধরে বেড়ী বাধের বাইরে ঘাট সংলগ্ন হোটেল ও মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু নদী ভাঙনে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি চলে যাওয়ায় এখন স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

স্টিমার ঘাটের সারেং আলী আজম জানান, ১৯৮৮ সালে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক নির্মিত ঘাটটির মাটিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। শনিবার রাতেই হঠাৎ করে সেই ফাটল ধরেই দোকান ও বসতবাড়ি নিয়ে ঘাটের সিঁড়িসহ নদী গর্ভে সব বিলীন হয়ে যায়।

বড়মাছুয়া স্টিমার ঘাটের টার্নিমাল সুপারিনটেনডেন্ট ফেরদৌস আহমেদ বলেন, দৈনিক দুটি স্টিমার এই ঘাট থেকে ঢাকা ও খুলনা রুটে চলাচল করে। ঘাট ও সিঁড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের পারাপারের জন্য তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার জানান, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

হাসান মামুন/আরএআর/জেআইএম