রুলিবালায় ফিরেছে সচ্ছলতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

পিতলের তৈরি রুলিবালা। এ রুলিবালা তৈরি করেই গৃহবধূ সুচরিতা সংসারে নিয়ে এনেছেন সচ্ছলতা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতুড়ি আর ছোট্ট ছেনি দিয়ে কারুকাজ ফুটিয়ে তোলেন রুলিবালায়। আর এরই মাঝে করেন সাংসারিক কাজ। সুচরিতা প্রতিদিন পাঁচ জোড়া রুলিবালা তৈরি করে ২শ’ টাকা মজুরি পান।

এ কাজ করে যে আয় করেন তা দিয়ে গত দুই বছর থেকে মাসে ২ হাজার টাকার ডিপিএস খুলেছেন, মেয়ে সুমাইয়াকে গ্রামের স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনাও করাচ্ছেন। স্বামী এনামুল সরদার স’মিলে কাজ করেন। দু’জনের উপার্জনে সচ্ছলতা ফিরেছে সংসারে।

নওগাঁর রানীনগর উপজেলা সদরের গ্রাম রনসিঙ্গার। এ গ্রামের বাজারে সাবেক সেনা সদস্য এমদাদুল হক গড়ে তুলেছেন রুলিবালার কারখানা। কারখানাটির নাম রেখেছেন এমদাদ বালা ঘর। ইতোমধ্যে গ্রামটি ‘কারিগর গ্রাম’ নামে পরিচিত পেয়েছে। এ গ্রামের প্রায় ১৫০ জন নারী রুলিবালার কাজ করেন।

jagonews

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে সংসারে স্বচ্ছলতা নিয়ে এসেছেন দরিদ্র পরিবারের এসব গৃহবধূরা। এছাড়া উপজেলার খট্টেশ্বর, পশ্চিম বালুভরা, রানীনগর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে আরো প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন।

জানা গেছে, পিতল দিয়ে তৈরি হয় রুলিবালা। পিতলের রং এবং সোনার রং প্রায় সমান। স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে অলঙ্কারের স্বাদ গ্রহণ করাও সম্ভব হয় না। রুলিবালাতে কারুকার্য করে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়। ফলে এটি ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এসব রুলিবালা সরবরাহ করা হচ্ছে।

রনসিঙ্গার গ্রামের গৃহবধূ হাসনাহেনা বলেন, রুলিবালার উপর নকশা করতে গ্রামেই ২০ দিনের একটা প্রশিক্ষণ নিই। গত চার বছর ধরে এ কাজ করছি। এখানকার প্রতিটি বাড়িতে রুলিবালা তৈরি করা হয়। আগে গল্প করে সময় পার করলেও এখন সবাই রুলিবালা তৈরিতে ব্যস্ত। কারোরই অবসর নেই।

jagonews

রানীনগর উপজেলার রুলিবালা কারখানার মালিক এমদাদুল হক জানান, ২৩ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরির পর ২০১৩ সালে অবসরে যান। এরপর নাটোর, সৈয়দপুর ও পাবর্তীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় প্রায় ছয়মাস রুলিবালা তৈরির উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে স্ত্রী রুমাকে রুলিবালার কাজ শেখান। এরপর বাড়িতে ১০ জন নারী শ্রমিক দিয়ে কারখানায় কাজ শুরু করেন। সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় সবার কাছেই পছন্দ রুলিবালা।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এ উপজেলায় প্রায় ৩৫০ জন নারী কারিগর রুলিবালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার কারখানায় কাজ করেন ১৮৫ জন নারী শ্রমিক। কাজের মান ভেদে নারী শ্রমিকদের ৮-৯ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়। এছাড়া প্রতি জোড়া ভেদে ৭০-৮০ টাকা করেও মজুরি দেয়া হয়। রুলিবালা বাজারে বিক্রি হয় রঙ ছাড়া ১৫০-১৬০ টাকা এবং রঙসহ ২৫০-৩০০ টাকা জোড়া।

আব্বাস আলী/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :