মাকে অপহরণের পর ২৭ দিন ধরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৮

ডিভোর্স দেয়ার অপরাধে স্ত্রীকে অপহরণ করে ২৭ দিন ঘরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও সন্তানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার সোলায়মান মার্কেট এলাকার সোলেমানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ওই নারীকে শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানার পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম মাহফুজা আক্তার মুন্নি (৩৯)। তিনি পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার মজিবর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেবর আলেক মিয়া (৩৫) ও ওই নারীর ছেলে মিরাজুল ইসলামকে (২৪) আটক করেছে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনজন পালিয়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২৭ দিন আগে দুই সন্তানের জননী মাহফুজা আক্তার মুন্নিকে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সোলেমান মিয়া এবং ছেলে মিরাজসহ কয়েকজন লোক রাতে অপহরণ করে নিয়ে আসে। পরে তাকে সোলায়মান মার্কেট এলাকার সোলেমানের বাড়ির একটি কক্ষে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি জানার পর শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী মাহফুজা আক্তার মুন্নি জানান, ১৯৯৪ সালে একই এলাকার সোলেমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছেলে মিরাজ ও মেয়ে মার্জিয়াকে নিয়ে স্বামীর ঘরে বসবাস করি। এসময় তার স্বামী ঠিকমতো ভরণপোষণ না দেয়ায় তিনি মাশরুম চাষ করে সংসারের খরচ চালাতেন। মাঝে মাঝে তাকে টাকার জন্য নির্যাতনও করতেন। স্বামীর অত্যার বাড়তে থাকায় দুই বছর আগে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন তিনি।

এদিকে কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলেকে বিয়েকে করার সিদ্ধান্ত নিলে স্বামী সোলেমান ও ছেলে মিরাজসহ পরিবারের লোকজন তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর ২৭ দিন ধরে বেঁধে রাখে। পরে রমিজা নামে তার এক বান্ধবী ওই বাড়িতে গিয়ে মুন্নিকে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশে মুন্নিকে উদ্ধার করে।

সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, এক নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে জানতে পেরে পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আল মামুন/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :