এমপি স্বপনের স্ত্রীর ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে ৫০ গুণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১২:২৩ এএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

যশোর-৫ আসনের এমপি স্বপন ভট্টাচার্যের স্ত্রী তন্দ্রা ভট্টাচার্যের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। ২০১৪ সালের আগে তার কোনো আয় না থাকলেও এখন তিনি প্রতি বছর আয় করছেন ১৭ লাখ টাকারও বেশি। তার ব্যাংক ব্যালেন্সও বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। তবে এসব আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো খাত জানানো হয়নি। পাশাপাশি কমেছে তার ব্যবহার্য স্বর্ণালংকার ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য।

দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্যের দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করে এমনই তথ্য মিলছে।

হলফনামা উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তন্দ্রা ভট্টাচার্য ৬৩ শতক অকৃষি জমির মালিক। যার মূল্য তিন লাখ ৩৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে একই জমির মূল্য দেখানো হয়েছিলো ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে রাজধানীর উত্তরায় এক হাজার ৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। যদিও একই ফ্লাটের মূল্য ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে দেখানো হয়েছিলো ৪৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ হলফনামা অনুযায়ী গত ৫ বছরে তন্দ্রা ভট্টাচার্যের জমি ও ফ্ল্যাট একই রয়েছে, শুধু কমেছে তার (জমি ও ফ্ল্যাট) মূল্য।

একই সময়ে তিনি গৃহিণী থেকে রীতিমতো ব্যবসায়ী হয়েছেন। যা থেকে তার আয় বছরে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার অন্যান্য খাতে আয় আছে আরও সাত লাখ ৯ হাজার ৩০০ টাকা। সব মিলে বছরে তিনি আয় করছেন ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ৩০০ টাকা। তবে হলফনামায় আয়ের সুনির্দিষ্ট খাত উল্লেখের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বপন ভট্টাচার্য হলফনামায় স্ত্রী তন্দ্রার ব্যাংকে জমা উল্লেখ করেছিলেন এক লাখ ১৫ হাজার ৯০৫ টাকা। তবে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৬ টাকা। অর্থাৎ তার ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে প্রায় ৫০ গুণ। ২০১৪ সালে তার দুই লাখ টাকার ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার থাকলেও এখন তার কাছে আছে মাত্র ২০ হাজার টাকার।

হলফনামা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আগের একটির সঙ্গে নতুন করে আরও একটি জিপ গাড়ির মালিক হয়েছেন এমপি স্বপন ভট্টাচার্য। সেই দুইটি জিপ গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬১ লাখ ২৩ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ছাড়া শহরের কুইন্স হাসপাতালে তার বিনিয়োগ করা আছে ১৪ লাখ টাকা, হাতে নগদ ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৭৯২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪১ টাকা। এই সময়ে তিনি নিজ গ্রামে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। রাজউক থেকে একটি ফ্লাট কিনেছেন যার মূল্য ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

তবে ২০১৪ সালের হলফনামায় স্বপন ভট্টাচার্য একমাত্র ছেলে সুপ্রীয়র কাছে নগদ ১১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা থাকার কথা উল্লেখ করলেও এবার তার (সুপ্রীয়) আর্থিক অবস্থার চিত্র উল্লেখ করেননি। যদিও শুভ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রীয়।

মিলন রহমান/এমএমজেড/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন :