পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ২১ আগস্ট ২০১৫

অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ধরলা নদের পানি বিপদসীমার নিকট দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ৪০৫টি চর-দ্বীপচরে শতাধিক গ্রামের প্রায় হাজার খানেক পরিবারের ঘরবাড়ি পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে।

বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ঢুকে পড়ে নীচু এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম কার্যালয়ে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ২৮.৮৯ সেন্টিমিটার ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ২৩.২৯ সে.মি. ধরলা নদীর সিএন বি ঘাট এলাকায় ২৬.৪৪ সে.মি. এবং দুধকুমার ২৫.৭৮ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী ব্রহ্মপুত্র পয়েন্টে ১৯৮ ও ধরলা পয়েন্টে ২০৭, তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্ট ২৪০ মি. মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে গত রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম শহরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, খাদ্য অফিস, আদর্শ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, খাদ্য গুদাম, মজিদা কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধা তৈরি হয়েছে।



শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ছড়ারপাড় গিয়ে দেখা যায় ধরলা নদীর পানি প্রচণ্ড বেগে ঢুকে উত্তর নেওয়াবশ, চৌধুরীপাড়া, চরসিতাইঝার, মালভাঙ্গা, কদমতলা, টাপুভেলাকোপা গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ছে। পানির তীব্র স্রোতে ছড়ার পার গ্রামে ৫শ মিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এসব গ্রামের অসংখ্য সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। চর ভগবর্তিপুরের কৃষক রহমান মণ্ডল আব্দুল ওহাব, মোজাহার আলী জাগো নিউজকে বলেন, অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি বাড়ছে। চারিদিকে পানি আর পানি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জাগো নিউজকে জানান, অবিরাম বৃষ্টি আর পহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ আর দুধকুমার নদীর পানিতে গারুহারা, চর যাত্রাপুর, ভগবতীপুর, দুর্গারচর (আংশিক) গোয়ালপুর, পার্বতীপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রবলহারে পানি বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুদিনে চর যাত্রাপুর এবং পার্বতীপুর এলাকায় ২০/২৫টি ঘর বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন,পানি প্রবাহের উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একটি কন্ট্রােল রুম খোলা হয়েছে।  

নাজমুল হোসেন/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।