ঠাকুরগাঁওয়ে শর্ট সার্কিটের আগুন নিয়ে চলছে রাজনীতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া শাহপাড়া গ্রামে মটাসা ঘোষ নামে এক ব্যক্তির ৮টি ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে ৮টি ঘরের আসবাবপত্র, প্রায় ৪০ মণ ধান ও ৭টি ছাগলসহ আরও বেশ কিছু জিনিসপত্র পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন মটাসা ঘোষ। যার আনুমানিক মূল প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে দাবি করছেন তিনি।

শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তি। এ ঘটনা জেনেই সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করেছেন, আগুনের ঘটনাটি প্রতিহিংসার কোনো ঘটনা কিনা?

আগুন ধরার খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগে স্থানীয়রাই নিজ উদ্যোগে আগুন অর্ধেক নিভিয়ে ফেলেন।

Thakurgaon__Fire__Jagannath

মটাসা ঘোষের পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ করেই ভোরের দিকে আগুন দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সারা বাড়িতে। পরে তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। এসময় আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মটাসা ঘোষের স্ত্রী পুরন রানী ঘোষ ও তার ছেলে কৃষ্ণ ঘোষ আহত হন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা।

আগুন লাগার খবরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দীন আলাল মাস্টার। এ ঘটনার জন্য তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটনকে দায়ী করেছেন।

তবে সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লিটন বলেন, ওই এলাকার লোকজনের ভোটে এক সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত নিয়েছি। নির্বাচনের সময় তারা আমার জন্য অনেক কাজ করেছে। আমিও তাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। রাজনৈতিক কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান আমার ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এমনও তো হতে পারে তারা নিজেরাই এ কাজ করে বিএনপি নেতাদের এলাকা ছাড়ার পাঁয়তারা করছেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইনুদ্দিন জানান, কিছু লক্ষণ ও আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি ঘটনাটি প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কীনা? তাৎক্ষণিকভাবে কারও কাছে এমন কোনো পাইনি। তারপরও অধিকতর তদন্ত করা হবে।

রবিউল এহসান রিপন/এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।