ইউপি চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে গিয়ে জনতার রোষানলে পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

ইউপি চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হামলায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মিয়া প্রাইভেটকারে সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রাইভেটকারটি উপজেলার নলডাঙ্গা মোড়ে পৌঁছালে রাস্তা পারের সময় এক বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা পুলিশের উপরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পুলিশের উপর হামলা করলে সাদুল্যাপুর থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল আবদুল কাফী আহত হন। পরে গাইবান্ধা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত বৃদ্ধাসহ ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাদুল্যাপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম রেজা, তার ছোট ভাই সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এশরাফুল কবীর আরিফ ও স্থানীয় পশু চিকিৎসক মঞ্জু মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জানান, ঘটনার পর আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং বাধা দেয়। পরে পুলিশ এলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ইউপি নির্বাচন কেন্দ্রেীক পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করীম রেজা ও তার পক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) এমরানুল কবীর জানান, হামলার ঘটনায় পুলিশের এএসআই হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল আবদুল কাফী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবদুল কাফীর দু’টি দাঁত ভেঙে গেছে। তাদের উদ্ধার করে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত বৃদ্ধাকেও হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি চলছে।

তবে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আটক রেজাউল করীম রেজার ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, হয়রানির উদ্দেশেই পুলিশ প্রভাবিত হয়ে তাদের আটক করেছে।

জাহিদ খন্দকার/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :