সক্রিয় মিলাদ, কৌশলী প্রচারণায় ড. রেজা

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৬ দিন বাকি। দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে ভোটাররা অনেকটাই নীরব রয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে তেমন কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।

আবার ভিন্নচিত্রও আছে অনেক এলাকায়। সেসব স্থানে নির্বাচনী ঝড় তুলছেন ভোটাররা। হিসেব কষতে শুরু করেছেন কে হচ্ছেন এ আসনের এবারের এমপি। তবে যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন এমন প্রার্থীকেই তারা জয়ী করতে চান বলে অনেকেই জানিয়েছেন। জেলার অন্যান্য আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তাদের দাবি অতীতে অনেক বঞ্চিত হয়েছে এ দু’টি উপজেলা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ফরিদ গাজীর ছেলে গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ দেদারছে সভা, সমাবেশ করে চলেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগও করছেন তিনি।

অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া প্রচারণায় কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। রাখ, ঢাক না করে নীরবে গণসংযোগ, প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্মী, সমর্থকরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন ড. রেজা কিবরিয়া নিজেও।

এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে অভিমান করে থাকা মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার মান ভেঙেছে। তার নেতৃত্বেই অবশেষে বিশাল কর্মী সমাবেশ করে ধানের শীষের পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেন তিনি। আর ড. রেজা কিবরিয়াও তার নেতৃত্বেই নির্বাচন পরিচালনা হবে বলে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই হিসেব পাল্টাতে শুরু করেছে এ আসনে। সব বিভেদ ভুলে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।

অন্যদিকে নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান আতিক। মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বাসদ মনোনীত চৌধুরী ফয়সল শোয়েব (মই), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত মো. নূরুল হক (গামছা) ও জুবায়ের আহমেদ (মোমবাতি)।

নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান জানান, এ আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এখানে বিগত দিনে ৫ বার আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ের মাসে আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ বলেন, আমি বিগত ১০ বছর ধরে নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।

সাবেক এমপি বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ধানের শীষের পক্ষে আমরা সবাই একাট্টা। এ আসনে ধানের শীষকে জয়ী করতে যা করণীয় আমরা তাই করব। এটিই আমাদের আন্দোলন। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা বুঝে গেছে তাদের নিশ্চিত পরাজয় হবে। তাই তারা নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেছে। পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে। বিশ্ববাসী দেখছে তারা মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে। ৩০ ডিসেম্বর টের পাবে জনগণের কত রাগ। ব্যালটের মাধ্যমে মানুষ তাদের এমন আচরণের জবাব দেবে।

অপরদিকে তরুন ভোটার আশরাফুল হাসান তপু বলেন, আমি এবারের নির্বাচনে প্রথম ভোট প্রয়োগ করব। আশা করি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারব।

এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :