ফিরিয়ে দিল প্রেমিকার বাবা, দুনিয়া ছাড়ল প্রেমিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০১৯

নীলফামারীতে প্রেমিক যুগল গলায় দড়ি দিয়েছে। প্রেমিক মারা গেলেও প্রেমিকার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকালে জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নের বড় সংগলশী নেথা বানিয়াপাড়া গ্রামে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আল আমিন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আপন চাচা জিকরুল হোসেনের মেয়ে জেসমিন তার প্রেমিকা। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে আর পড়েনি। দুইজনের বয়স ১৬। একই স্থানে তাদের বাড়ি। ফলে চাচাতো ভাই-বোনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি তাদের প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে পরিবারের কাছে বিয়ের দাবি তোলে এই প্রেমিক যুগল। কিন্তু বাদ সাধে প্রেমিকার বাবা। ফিরিয়ে দেয় মেয়ের প্রেমিককে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দেখা দেয় বিবাদ।

শনিবার রাতে নিজ ঘরে সবার অজান্তে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে প্রেমিক আল আমিন। সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় ডাকাডাকি সবাই। কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ফেলে পরিবারের লোকজন। দেখতে পায় আল অমিনের দেহ ঝুলছে। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এই খবর।

প্রেমিকের আত্মহত্যা সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকা জেসমিনও নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ে। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে আসে সদর আধুনিক হাসপাতালে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম বলেন, আল আমিনের আত্মহত্যার ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রেমিকা গলায় দড়ি দেয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।