যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ফসল নষ্টের অভিযোগ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ৩ একর জমিতে করা খেসারি ডালের ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা কামরুল সরকারে বিরুদ্ধে। তিনি সদর উপজেলার ২০ নম্বর চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক।

গত দুইদিন ধরে ট্রাক্টর দিয়ে মাড়িয়ে ওই ফসলের ক্ষেত নষ্ট করা হয়। উপজেলার উত্তর চররমনী মোহন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষকদের ১০০ মণ ধান কেটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর চররমনী মোহন এলাকায় আবু তাহের পাটোয়ারী, আলী আজম, জয়নাল আবেদিন ও হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন কৃষকের প্রায় ৫ একর জমি রয়েছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা ওই কৃষকরা ওয়ারিশসূত্রে জমিগুলোর মালিক। তারা ১৯৪৫ সাল থেকে ওই জমিতে চাষাবাদসহ ভোগদখল করে আসছেন।

গত ডিসেম্বরে তারা জমিতে ধান চাষ করেন। কিন্তু যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল সরকার জোরপূর্বক জমিগুলো দখলের পাঁয়তারা করে আসছেন। একপর্যায়ে তিনি দলবল নিয়ে প্রায় ১০০ মণ ধান কেটে নিয়ে যান। বাধা দিতে গেলে কৃষকদের তত্ত্বাবধায়ক শাহ আলম, হারুন, ইয়াজল, সিরাজ ও মাসুদকে মারধর করেন। সম্প্রতি কৃষকরা ক্ষেতে খেসারি ডাল চাষ করেন। কামরুল লোক দিয়ে গত দুইদিন ধরে ট্রাক্টর মাড়িয়ে ৩ একর জমিতে করা ফসলগুলো নষ্ট করে দেন।

মান্দারীর উত্তর দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক আবু তাহের পাটোয়ারী ও পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার জয়নাল আবেদীন জানান, লোক লাগিয়ে যুবলীগ নেতা কামরুল তিন একর জমিতে ট্রাক্টর মাড়িয়ে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছেন। এর আগেও তিনি জোরপূর্বক ধান লুট করে নিয়ে গেছেন। বাধা দেয়ায় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ নেতা কামরুল সরকার বলেন, আমি ধান লুট করিনি। যারা চাষ করেছে, তারাই ধান নিয়েছে। তিনদিন আগেও চরে গিয়ে কোনো সমস্যা দেখিনি। ফসলের ক্ষেত নষ্ট করা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মতিন বলেন, ধানের মৌসুমে সমস্যা হওয়ায় আমি ঘটনাস্থলে যাই। ডালের ক্ষেত নষ্ট করার বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে।

কাজল কায়েস/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :