রাস্তার কাজ বিদ্যুতের খুঁটিতে আটকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:৪৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

নওগাঁ থেকে রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭৪ কিলোমিটার চারলেন সড়ক প্রসস্তকরণের কাজ চলছে। আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এরমধ্যে নওগাঁ শহরের প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তায় বড় বাধা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) বিদ্যুতের খুঁটি।

গত বছরের ২১ জানুয়রি সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে নেসকোকে অর্থ পরিশোধ করা হলেও খুঁটিগুলো অপসারণ না করায় রাস্তায় কার্পেটিং করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাস্তার মধ্যে ছোট ছোট খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে রাস্তার ধুলোয় পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতনরা।

জানা গেছে, নওগাঁ শহরের বাইপাস ঢাকার মোড় থেকে শহরের মধ্য দিয়ে গত বছরের মার্চ মাসে আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রসস্তকরণ কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য স্থানেও কাজ শুরু হয়। পরে যেসব স্থানে কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর কাজ এখন প্রায় শেষের পথে। কিন্তু নওগাঁর বাইপাস ঢাকার মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের মধ্য দিয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

রাস্তা প্রসস্তকরণসহ দীর্ঘদিন থেকে খোয়া ও পাথরের কাজ শেষ হলেও রাস্তায় নেসকোর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় বিটুমিনের কাজ (সার্ফেসিং) শুরু করা যাচ্ছে না। কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি ইতোমধ্যে সরানো হলেও অনেক খুঁটি এখনও বিদ্যমান। এতে দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকা খোয়া ও পাথরের রাস্তা এখন বেহাল হয়ে পড়েছে। সেগুলো উঠে গিয়ে এখন রাস্তার মাঝে ছোট ছোট খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাস্তার ধুলোয় পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর আশপাশের দোকানগুলোতে রাস্তার ধুলার স্তূপ জমছে।

Naogaon-Road-Pic_02

স্থানীয়রা বলছেন, ধুলা-বালিতে রাস্তার পাশে থাকা যায় না। বাস-ট্রাক চলাচলে অনেক সময় রাস্তায় ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। রাস্তায় সকাল-বিকেল ঠিকাদাররা পানি দিলেও কোনো কাজেই আসছে না। রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় কাজের বিলম্ব হচ্ছে।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী মুহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, নওগাঁ থেকে রাজশাহী মোট ৭৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ চলছে। এর ১১ কিলোমিটারের মধ্যে নেসকোর বিদ্যুতের খুঁটি আছে। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৮ কোটি টাকা নেসকোকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুঁটি অপসারণ করা হয়নি।

রাস্তা প্রসস্তকরণে খোয়া ও পাথরের কাজ অনেক আগে শেষ হলেও খুঁটি অপসারণ না হওয়ায় কার্পেটিং শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। খুঁটি না সরিয়ে কাজ করলে পরবর্তীতে সেখানে আর টিকবে না। তাই খুঁটি সরানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, নওগাঁ শাখার প্রকৌশলী সুব্রত কুমার দাস বলেন, শুধু আমাদের গাফিলতির কারণে কাজটা হচ্ছে না, এটা ঠিক না। আমাদের ৬০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। যেখানে হয়ে গেছে তারা সেখানে কাজ করতে পারেন। আমাদের ডিপার্টমেন্টে মালামালের কিছুটা সঙ্কট আছে। কাজ শেষ হতে এখনও ২/৩ মাস সময় লাগতে পারে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।