মাছের ঘেরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৯

অসহায় গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে মাছের ঘেরে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনয়িনের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে মাছের ঘেরে। ছোট ভেটখালী গ্রামের ফাঁকা জায়গায় ঘেরের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ঘরটি জেসমিন আরার নামে নির্মাণ করা হয়। জেসমিন আরার স্বামী আবুল হোসেন গাজী একজন মোটরসাইকেল ভাড়া চালক।

আবুল হোসেন গাজী ছোট ভেটখালী গ্রামের কেরামত আলী গাজীর ছেলে। কেরামত আলী গাজী বলেন, আমার ছেলের বউয়ের নামে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। মাছের ঘেরের মধ্যে করা হলেও পরে ছেলে ও বউ এখানে বসবাস করবে। দেড় বিঘা জমির ওপর মাছের ঘেরটি রয়েছে।

satkhira-house-(4)

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সদস্য ওহাব আলী বলেন, ঘরটি কিভাবে ওখানে নির্মাণ হয়েছে বা কিভাবে তালিকায় এসেছে সেটা আমি জানি না। আপনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম মোড়লের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়ে ঘরের তালিকা করা হয়েছে। এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানরা। টাকা উত্তোলনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে চেয়ারম্যানদের ঘনিষ্ঠজনদের।

শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় শ্যামনগর উপজেলায় এক লাখ টাকা মূল্যের ৪০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি মনিটরিং করেছে। শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে বলে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি।

satkhira-house

টাকার বিনিময়ে তালিকায় নাম ওঠানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তালিকা নেয়া হয়েছে। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু প্রমাণ নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। এমনকি অভিযোগ পেয়ে গোপনে তদন্ত করলেও বিষয়টি স্বীকার করেনি তারা। ফলে কোনো পদক্ষেপ আমরা নিতে পারিনি।

মাছের ঘেরে ঘর নির্মাণের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, কেরামত আলী গাজীর ছেলেদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। যার কারণে অন্য কোথাও জমি না থাকায় সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানও জানেন। পরিবারটি অসহায়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের বিষয়ে অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, মাছের ঘেরে ঘর নির্মাণ হয়েছে এমন অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।