ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকার সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১২:৩৭ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ঘাতক মেহেদী হাসান রনিকে আটক করেছে পুলিশ।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বরিশাল নগরীর উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ঘুরতে গিয়ে প্রেমিকার সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে মো. রুবেল হাসান (২২) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে রুবেলের বন্ধু নাইমুর রহমান মিতুল (২১) গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘাতক মেহেদী হাসান রনিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশ।

নিহত রুবেল উজিরপুরের সাতলা এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে এবং বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। আহত নাইমুর রহমান নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ছাত্র। তার বাসা নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিপরীত দিকে। নাইমুরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘাতক মেহেদী হাসান রনির বাড়ি ঝালকাঠি শহরের কলেজ রোড এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, বরিশাল নগরীর মল্লিকবাড়ি রোডের (নাজমা ভিলা) হাজী নেছার উদ্দিনের মেয়ে সাওদা আক্তারের সঙ্গে মেহেদী হাসান রনির বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। বিয়ের কিছুদিন পর দাম্পত্য কলহের জের ধরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তারা দুইজন আবার বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দ্বিতীয় দফায় আবারও তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

অন্যদিকে সাওদার বাসার পাশে একটি মেসে থাকতেন রুবেল হাসান। রুবেল হাসানের সঙ্গে প্রায় দেখা হতো সাওদার। একপর্যায়ে রুবেল হাসানের সঙ্গে প্রেমের জড়ায় সাওদা। সম্প্রতি রনি আবারও সাওদাকে বিয়ে করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তিনি সাওদা ও রুবেল হাসানের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে রুবেল তার বন্ধু নাইম এবং সাওদাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বেড়াতে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন সাওদার সাবেক স্বামী মেহেদী হাসান রনি। তিনি উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে রুবেলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে বন্ধু নাইমও আহত হন। দুজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। আইসিইউতে নেয়ার পর চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে রুবেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক মো. আসাদ জানান, ঘটনার পরপরই মেহেদী হাসান রনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

সাইফ আমীন/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :