পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় স্ত্রী-সন্তানদের ভয়ে বাড়িছাড়া এক বৃদ্ধ। তার নাম মনির আহমেদ (৭০)। বার্ধক্যের চাপ তার চোখে-মুখে। গত ৪০ বছর নিজে খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ দিয়েছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

তার সংসারে স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানরা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত বলে অভিযোগ বাবার। তাদের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধসহ মনিরকে মারধর করা হয়।

সন্তানদের ভয়ে পাঁচ বছর ধরে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাড়িতে যেতে পারছেন না। সোমবার দুপুরে মনির আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।

রোববার সন্ধ্যায় বসতবাড়িতে বসবাস ও নিজের সম্পদ ভোগ করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় মনির। এ নিয়ে তিনি রায়পুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, ছেলে নূরনবী, দুলাল, খোরশেদ, মো. সুমন, মেয়ে কালী বেগম, সোহাগী বেগম ও ছেলের স্ত্রী খুরশিদা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়। বাদী ও অভিযুক্তরা রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির বাসিন্দা।

বৃদ্ধ মনির বলেন, সন্তানের হাতে অব্যাহত নির্যাতনের ঘটনা আত্মীয়-স্বজন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও তারা কারও কথা শুনছে না। উল্টো আরও বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি। তাদের কারণে আমাকে গোয়ালঘরে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি আমি।

সম্প্রতি বাগানের নারিকেল-সুপারি গাছ কেটে ছেলে-মেয়ের ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে আমি বাড়িতে যাই। ওই সময় ছেলে-মেয়েরা মারধর করতে আসলে পালিয়ে আসি আমি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, মনির বৃদ্ধ হলেও আচরণ ভালো নয়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমাদের মারধরসহ অশালীন আচরণ করত। এ কারণে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে বাধ্য হয়েছি। তাকে কখনো মারধর করা হয়নি।

উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আহম্মদ বলেন, মনির ও তার পরিবারের সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার সালিসি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সমস্যা সমাধান করা যায়নি। পরে মনিরকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়পুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোলায়মান বলেন, বৃদ্ধের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে হাজীমারা পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

কাজল কায়েস/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।