আমার ছেলের কী অপরাধ?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় যুবলীগ নেতা জাকিরের বিরুদ্ধে পাঁচ গ্রামের নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। একই সঙ্গে যুবলীগ নেতা রিপন হত্যার বিচার দাবিতে যুবলীগ নেতা জাকিরের শাস্তি চান তারা।

রোববার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এ মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে যুবলীগ নেতা রিপন হত্যার বিচার দাবিতে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেন পাঁচ গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন, নুরুজ্জামান, কান্দারগাঁও গ্রামের বজলুর রহমান, আব্দুল হামিদ, ভবনাথপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম, নাঈম, ফাতেমা ও জাকির বাহিনীর হাতে নিহত যুবলীগ নেতা রিপনের মা রিনা বেগম প্রমুখ।

এতে বক্তারা বলেন, পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ গ্রামের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। আধিপত্য বিস্তার করতে জাকির হোসেন ও তার বাহিনী কান্দারগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এ মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে চার্জশিট থেকে নাম কেটে নেন। পরবর্তীতে জাকির হোসেন তার বাহিনীর সদস্য দুদু মিয়ার ভাগিনা সাধনকে গলা কেটে হত্যার পর নিহত রিপনের আত্মীয়-স্বজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে।

২০ ফেব্রুয়ারি কান্দারগাঁও গ্রামের প্রতিপক্ষের ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। পরদিন জৈনপুর গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী শুক্কুর আলীর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে জাকির ও তার বাহিনী পিটিয়ে আহত করে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

নিহত যুবলীগ নেতা রিপনের মা রিনা বেগম বলেন, আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল? গ্রামের মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমার ছেলে রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করে জাকির ও তার লোকজন। আমি জাকিরের বিচার চাই।

এসব বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে এগুলো অপপ্রচার। কান্দারগাঁও গ্রামের বজলু ও তার ভাই জগলু ওয়ার্ড মেম্বার মোশারফকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। এজন্য আমি সোনারগাঁয়ে বসবাস করি না। তবে মাঝেমধ্যে আসি। সম্প্রতি ক্রিকেট খেলা নিয়ে একটি সালিসকে কেন্দ্র করে আমার বোন জামাইসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করে মোশারফ মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের লোকজন। এ ঘটনায় মামলা করায় আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, গ্রামবাসীর স্মারকলিপি পেয়েছি। সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসিকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।