কুমেক হাসপাতালে ৪২ দিন পর অক্সিজেন চালু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ০৫ মার্চ ২০১৯

অবশেষে ৪২ দিন পর সচল করা হয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন/নাইট্রাস পাইপ লাইন। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি নতুন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করার সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসতর্কতায় গত ২৩ জানুয়ারি ওই পাইপ লাইনটি ভেঙে বিকল হয়ে যায়। এতে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার লাইনটি সচল করার কাজ সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে অক্সিজেনের পাইপ লাইন বিকল থাকায় ওই হাসপাতালের সার্জারি, কার্ডিওলজি ও মেডিসিনসহ অন্যান্য বিভাগের রোগীদের চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

কুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য মেসার্স কন্সট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। মাটির ভূ-গর্ভে পি-কাষ্ট পাইল ড্রাইভ করার সময় গত ২৩ জানুয়ারি সেন্ট্রাল অক্সিজেন/নাইট্রাস পাইপ লাইনটি অসাবধানতাবশত লিকেজ হয়ে যায়।

এতে অক্সিজেন সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিকসসহ বিভিন্ন বিভাগের সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং রোগীর অস্ত্রোপচারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর ওই পাইপ লাইনটি মেরামতের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগ ও অক্সিজেন সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার চিঠি দেয়।

এতে গত কয়েকদিন ধরে চেষ্টার পর লাইনটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হলে ৪২ দিন পর মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হয়। এতদিন সেন্ট্রাল অক্সিজেন বন্ধ থাকায় ছোট অক্সিজেন বোতল কিনে হাসপাতালের বিভিন্ন অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রোগীদের অস্ত্রোপচার চলে আসছিল।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন/নাইট্রাস পাইপ লাইন মেরামতের পর মঙ্গলবার থেকে পুনরায় চালু হলেও লাইনগুলো পুরনো হওয়ায় হাসপাতালের ভেতরের অনেক জায়গায় লিকেজ হচ্ছে। ফলে অনেক অক্সিজেন অপচয় হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে মূল্যবান একটি সিটিস্ক্যান মেশিন পড়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিলম্বের কারণে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সিটিস্ক্যানের জন্য রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।