৩২ বছর ধরে বিরোধ, ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৫:১১ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসুদেবপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে নারীসহ এক পরিবারের ছয়জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

আহতদের মধ্যে দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন উপজেলার বাসুদেবপাড়া এলাকার মৃত আ. সোবাহান সরদারের ছেলে হাবিব সরদার (৪৫), আলমগীর সরদার (৩৭), জাহাঙ্গীর সরদার (৩৮) ও মজিবর সরদার (৪৮)। এছাড়া হামলায় হাবিব সরদার ভাই হুমায়ুন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগম (৩০) ও মজিবর সরদারের ছেলে শান্ত সরদার আহত হয়েছেন।

আহতদেরকে গৌরনদী উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর হাবিব সরদার ও আলমগীর সরদারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন একই এলাকার নুর মোহাম্মদ প্যাদার ছেলে নজরুল প্যাদা (৪৫), রিমন প্যাদা (৩০) ও ছিদ্দিক প্যাদার ছেলে কামরুল প্যাদা (৪২) এবং বাচ্চু আকনের ছেলে তুষার আকন।

স্থানীয়রা জানান, হাবিব সরদারের পরিবারের সঙ্গে প্রায় ৪ একর ২৫ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশী নজরুল প্যাদার পরিবারের ৩২ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৮৮ সালে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে নুর মোহাম্মদ প্যাদার পরিবারের হাতে খুন হন হাবিব সরদারের চাচা শাহ আলম সরদার।

এরপর থেকে জমি নিয়ে ওই দুই পরিবারের মধ্যে বশে কয়েকবার হামলা-মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে নজরুল প্যাদা তার ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী নিয়ে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাবিব সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আলমগীর সরদার, জাহাঙ্গীর সরদার, মজিবর সরদার, রুমা বেগম ও শান্ত সরদার বাধা দিলে নজরুল প্যাদার লোকজন তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এতে ছয়জন গুরুতর আহত হন।

গৌরনদী থানা পুলিশের এসআই মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত নারীসহ ছয়জনকে উদ্ধার করে উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে গুরুতর হাবিব সরদার ও আলমগীর সরদারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সাইফ আমীন/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :