সিমেন্ট ছাড়া বাঁধ নির্মাণ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯

নেত্রকোনার মগড়া নদীর ভাঙন রোধ বাঁধের নিরাপত্তা পিলার অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করায় নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই পিলারে ফাটল ধরে রড ভেঙে নদীতে ঝুলে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ধসে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঠিকাদার ও প্রকৌশল বিভাগের লোকজন বলছেন, এ বাঁধের প্রাক্কলন ডিজাইন দুর্বল হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সিডিউলে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে নিম্নমানের কাজ করায় বাঁধের কয়েকটি খুঁটিতে ফাটল ধরেছে। রড ভেঙে বাঁধটি ঝুলে পড়ায় বাঁধ নির্মাণকাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, মগড়া নদীর ভাঙন রোধকল্পে এলজিইডি প্রকল্পের আওতাধীন শ্রীধরপুর থেকে বালালী বাজার পর্যন্ত মগড়া নদীর পাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কসহ ১৬৫ মিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণকাজে ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

নেত্রকোনার ঠিকাদার শ্যামল চন্দ্র সাহা ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ওই প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ পান। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ থাকলেও ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী খুঁটি না পুঁতে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ এবং সিমেন্ট না দিয়ে শুধু বালুভর্তি ব্যাগ দেয়ায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেয়াল ফেটে রড ভেঙে নদীতে ঝুলে পড়েছে বাঁধ। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ধসে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হক মিয়া, কামাল মিয়া, সোহেল মেম্বার, হুমায়ুন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মো. জুলফিকার, নয়ন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার সময়মতো পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেনি। সময়মতো বাঁধের নির্মাণকাজ শুরুও করেনি। শেষসময়ে এসে তড়িঘড়ি করে নামেমাত্র পিলার দিয়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে। সিমেন্টের সঙ্গে বালু না মিশিয়ে শুধু বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করেছে ঠিকাদার। ফলে বাঁধে ফাটল ধরে। সেই সঙ্গে রড ভেঙে ঝুলে পড়েছে বাঁধটি।

স্থানীয়রা জানান, পিলার ভেঙে পড়ার পর বাঁধের উঁচু জায়গায় গত দুইদিন ধরে সিমেন্ট মিশ্রিত বালুর বস্তা দিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন। যদিও এর আগে বাঁধ কিংবা দেয়াল নির্মাণে সিমেন্ট ব্যবহার করেনি তারা। বাঁধটি নির্মাণে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে নদীর পাড়ে সিসি ব্লক স্থাপনের দাবি জানান তারা।

এই প্রকল্পকাজের ঠিকাদারের অংশীদার প্রবীর বাবু বলেন, ডিজাইন দুর্বল হওয়ায় প্রতিরক্ষা দেয়ালে ফাটল ধরে ভেঙে গেছে। তবে আমরা সিডিউল মোতাবেক কাজ বাস্তবায়ন করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙনের জায়গাটি সংস্কার করা হবে। সিমেন্ট ছাড়া বালুর ব্যাগগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। কিন্তু প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করলেও এ পর্যন্ত কাজের কোনো বিল পাইনি আমরা।

মদন উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা বলেন, মগড়া নদী খননের আগে কাজের প্রাক্কলন তৈরি করায় ডিজাইন দুর্বল হয়েছে। যার কারণে কাজের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে বাধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদারকে কাজটি সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে। কাজ শেষ না করলে কোনো বিল দেয়া হবে না।

কামাল হোসাইন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :