নেত্রকোনায় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ফসল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ০৭ মে ২০১৯

ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার বারহাট্টা ও কলামাকান্দা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরা ফসল। সোমবার বিকেল ৩টার পর থেকে ভাঙা অংশ দিয়ে ফসলি জমিতে পানি ঢুকছে। এতে করে ওই বাঁধের আওতায় অন্তত ২৫০ হেক্টর জমির বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে কলমাকান্দার বড়কাপন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাদিছুজ্জামান জানান, পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলা মধ্যনগর ইউনিয়নের গড়াডুবা হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে কলামাকান্দা উপজেলার বড়কাপন ইউনিয়নের মোহিশাসুরা মেদার বিল, জাঙ্গিয়ার বিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকছে। তবে এসব বিলের আশি ভাগ ফসল কাটা হয়ে গেছে।

এদিকে বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের গুমাই নদী সংলগ্ন সিংগুয়াইর বিলের একটি ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গুমাই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে ওই নদী সংলগ্ন সিংগুয়াইর বিলের ফসল রক্ষা বাঁধের পুটিয়াজান (পুটাকিয়া) এলাকায় বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ, মাটি, বস্তা ফেলে বাধা দেয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিকেল ৩টার দিকে ওই অংশের অন্তত ২০ ফুট বাঁধ ভেঙে যায়।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাঈনুল হক কাশেম, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আকাক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করে বাঁধটি মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাইমিনুল রশিদ জানান, ওই ব্লকে মোট ৬৮০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে বিআর-২৮ জাতের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। এছাড়া কিছু জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় থাকায় সেগুলোর ফসল ডোবার আশঙ্কা নেই। তবে পানি বাড়তে থাকলে নিচু এলাকার প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির উঠতি ফসল হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে বাঁধ ভাঙার পর থেকে স্থানীয় চাষিরা কাঁচা ও আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা শুরু করেছেন। কিন্তু এলাকায় পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাইলেও অনেকে ফসল কাটাতে পারছেন না বলে জানান ওই এলাকার কৃষক তরিকুল ইসলাম।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, বাঁধটির নিচ দিয়ে বিএডিসির একটি পাইপ ঢোকানো হয়েছিল। পাইপ ঢোকানোর কারণে ওই জায়গাটিতেই লিকেজ হয়ে ভাঙন দেখা দেয়। তবে বাঁধটি রক্ষায় সর্বত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কামাল হোসাইন/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।