পাবনায় শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ১৬ মে ২০১৯

পাবনায় সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের শিক্ষক মাকসুদুর রহমানকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে জেলা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল আলম, প্রভাষক রাজু আহমেদ, সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান, মারধরের শিকার শিক্ষক মাকসুদুর রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি এবং সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ কর্মস্থলের দাবি জানানো হয়। এ সময় আগামী রোববার থেকে তিনদিন কালো ব্যাজ পড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও শিক্ষক নেতারা বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনের আগে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হুমায়ন কবির মজুমদার এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও এডওয়ার্ড শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. একেএম শওকত আলী খান শিক্ষকদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এদিকে শিক্ষককে মারধরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে সজল (২৩) এবং পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের ইউসুফ আলী সেখের ছেলে শাফিন (২০)। সজল সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের হিসাব বিজ্ঞান অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র এবং শাফিন একই কলেজের দ্বাদশ ২য় বর্ষের ছাত্র। দুজনই ছাত্রলীগের কর্মী বলে পুলিশ জানায়।

এর আগে বুধবার রাতে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় সজল ও শাফিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে মারধরের শিকার শিক্ষক সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, থানায় যে মামলা করা হয়েছে সে মামলায় প্রভাবশালীদের চাপে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হয়েছে। তাকে মারধরের ইন্ধনদাতাকে এজাহার থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

নকলে বাধা দেয়ার ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের শিক্ষক মাকসুদুর রহমানকে বেদম মারধর করে ছাত্রলীগের কয়েকজন। ওই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পাবনাসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, গত ৬ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ১০৬ নং কক্ষে এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের দুইজন ছাত্রী দেখাদেখি করছিলেন। এ সময় ওই কক্ষের পরিদর্শক সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে নিবৃত্ত করতে না পেরে একপর্যায়ে খাতা কেড়ে নেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ওই শিক্ষক কলেজ থেকে মোটরসাইকেল যোগে বের হওয়ার সময় কলেজ গেটের সামনেই তাকে কিল-ঘুষি-লাথিসহ বেদম মারপিট করো হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষক এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের একজন নেতাকে দায়ী করেন।

একে জামান/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :