শ্যালকের নাম ব্যবহার করে দুলাভাইয়ের দুর্নীতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ২০ মে ২০১৯

হবিগঞ্জে পোস্ট অফিসগুলো পরিদর্শনের নামে জালিয়াতি করে ডাক বিভাগের ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের (ইএমটিএস) টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন ডাক বিভাগের এক কর্মচারী।

সহকারী পোস্ট মাস্টার কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান এ জালিয়াতি করেছেন। বিভিন্ন পোস্ট অফিসে সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেলের সফর সঙ্গী হওয়ার সুযোগে তিনি এমন জালিয়াতি করেছেন। তার জালিয়াতির কারণে ফেঁসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বাহুবল উপজেলা পোস্ট মাস্টার হামিদুল হক চৌধুরী।

অবশেষে ডাক বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন। তদন্তে জালিয়াতির মূল হোতা মিজানুর রহমানের নানা অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসে। শ্যালকের নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতি করেছেন দুলাভাই। বিষয়টি জানতে পেরে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছেন শ্যালক।

বাহুবল উপজেলা পোস্ট মাস্টার হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ২৩ এপ্রিল হবিগঞ্জ ডাক বিভাগের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেলের সঙ্গে সেখানে অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের স্টেটমেন্ট চেক করতে মোবাইল ফোন ও পাসওয়ার্ড চান।

পাসওয়ার্ড দেয়ার পর তিনি প্রেরকের ঠিকানায় আমার মোবাইল ফোন নম্বর ও নাম ব্যবহার করেন এবং জনৈক মনি নামের একজনকে গ্রহীতা সাজিয়ে সবার অজান্তে ৫ হাজার টাকা পাঠান।

সঙ্গে সঙ্গে আবার মেসেজ ডিলিট করে দেন। পরবর্তীতের ওই টাকা হবিগঞ্জ কোর্ট সাব পোস্ট অফিস থেকে নিজেই ফরম পূরণ করে উত্তোলন করে নেন। এ নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের সহযোগিতায় তথ্যাদি সংগ্রহ করে আমি অভিযোগ দিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। পাসওয়ার্ড না দিলে তো স্টেটমেন্ট চেক করতে পারবে না। তাই পরিদর্শনকারীকে সবসময় এটি দেয়া হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল কার্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল কাদের বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্চি। রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুতসময়ে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হবে।

হবিগঞ্জের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. শাহজাহান বলেন, তদন্ত চলছে। চলতি সপ্তাহে তদন্ত শেষ হবে বলে আশা করছি। প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল পোস্ট মাস্টার জেনারেলের কাছে পাঠানো হবে। সেখানে থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেলের (এপিএমজি) কার্যালয়ে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন মিজানুর রহমান। এ সুবাদে তিনি এপিএমজির সঙ্গে বিভিন্ন পোস্ট অফিস পরিদর্শনে যান। গত ২৩ এপ্রিল ধারাবাহিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বাহুবল উপজেলা পোস্ট অফিস পরিদর্শনে যান। সেখানে উপজেলা পোস্ট মাস্টার হামিদুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে ইএমটিএসের স্টেটমেন্ট চেক করতে মোবাইল ফোন ও পাসওয়ার্ড চান। তিনি মোবাইল ফোন ও পাসওয়ার্ড দেয়ার পর কৌশলে তিনি নিজের শ্যালক আল আমিনকে প্রেরক এবং জনৈক মনিকে গ্রহীতা দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা পাঠান।

২৫ এপ্রিল নিজেই ফরম পূরণ করে হবিগঞ্জ কোর্ট সাব পোস্ট অফিস থেকে উত্তোলন করে নেন। এদিকে প্রধান কার্যালয়ে ওই মাসে ১২ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেন উপজেলা পোস্ট মাস্টার। কিন্তু প্রধান কার্যালয় তাকে জানায় ১৭ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকার মেসেজ মোবাইলে নেই দেখে হিসেব মিলাতে পারছিলেন না উপজেলা পোস্ট মাস্টার। তিনি প্রধান কার্যালয়ে জানতে চান উক্ত টাকা কোথা থেকে কত তারিখে উত্তোলন করা হয়েছে। সে তথ্য তারা সরবরাহও করেন। তার সূত্র ধরেই ঘটনার মূল তথ্য উন্মোচন হয়। পরে তার শ্যালক আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন উপজেলা পোস্ট মাস্টার। ঘটনা শুনে হতবাক হন তিনি। নিজে থেকেই লিখিত অভিযোগ দিয়ে জানান, ওই তারিখে বাহুবল পোস্ট অফিস থেকে তিনি কোনো টাকা কারও কাছে প্রেরণ করেননি। মনি নামে কাউকে তিনি চেনেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/এমকেএইচ