মজুরি-বোনাস পেয়ে আনন্দে ভাসছেন পাটকল শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ৩০ মে ২০১৯
ফাইল ছবি

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর কাঙ্ক্ষিত মজুরি ও ঈদ বোনাস পেয়ে আনন্দে ভাসছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। মিলগুলোতে সর্বনিম্ন ৭ সপ্তাহ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি এবং একটি ঈদ বোনাস দেয়া হচ্ছে।

বিজেএমসির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের জন্য ৩৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার মজুরি এবং ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বোনাস প্রদান করা হয়েছে। বিজেএমসি থেকে সরাসরি এই টাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে দেয়া হচ্ছে।

খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর ও কাপেটিং জুট মিলে ৭ সপ্তাহের মজুরি এবং ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, জেজেআই, ইস্টার্ন, আলিমে ১০ সপ্তাহে মজুরি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সব মিলেই শ্রমিকদের এক সপ্তাহের ঈদ বোনাস দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয় প্লাটিনাম জুট মিলের স্থায়ী শ্রমিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, ১০ সপ্তাহের মজুরি ও একটি ঈদ বোনাসসহ ২৫ হাজারের কিছু বেশি টাকা তার অ্যাকাউন্টে এসেছে। এটিএম কার্ড দিয়ে তিনি ২০ হাজার টাকা তুলেছেন। টাকা নিয়ে আগে পাওনাদারদের ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। এরপর পরিবারের জন্য কেনাকাটা ও ঈদের বাজার করবেন। দীর্ঘদিন পর বকেয়া মজুরির টাকা পেয়ে আনন্দে কেদে ফেলেন তিনি।

মিল এলাকার একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে তাদের একই ধরনের অনুভূতি জানা গেছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। ৩০ হাজার শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে ঘণ্টা খানিক সময় লাগবে। এজন্য সব শ্রমিক এখনো টাকা তুলতে পারেনি। তবে সব শ্রমিকই এখন খুশি। সোমবার আরও দুই সপ্তাহের মজুরি দেয়া হতে পারে।

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমীন বলেন, এক ঘণ্টা আগেও শ্রমিকরা মুখভার করে বসেছিলেন। এখন সবাই আনন্দিত। দ্রুত মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হলে শ্রমিকদের মাঝে আর কোনো ক্ষোভ থাকবে না।

বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি পাটকলের জন্য ৪৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। পুরো টাকাই শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যার আগেই সবার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।

আলমগীর হান্নান/এমবিআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :