বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে স্বস্তির যাত্রায় অস্বস্তির বৃষ্টি!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০২:১২ পিএম, ০২ জুন ২০১৯

আজ (রোববার) ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের স্বস্তির যাত্রায় চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। নাড়ির টানে আর পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশে বাড়ি ফেরা মানুষের পথচলায় অনেকটাই বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে বৃষ্টি। এ কারণেই মহাসড়কেও কমেছে কিছুটা পরিবহনের চাপ। বৃষ্টি বিড়ম্বনা সত্ত্বেও মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ সড়কে ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ ফিরতে শুরু করায় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। গত শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ২১ হাজার ৯৮১টি যানবাহন চলাচল করেছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৭৭ আর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১০৪টি। এ যান চলাচলে সেতুর টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৯৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩২০ টাকা।

Tangail-pic-1.jpg

এর আগে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ২৫ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৪০টি আর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সংখ্যা ১১ হাজার ৩৪৬টি। এ যান চলাচলে সেতুর টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। তবে গত বৃহস্পতি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মহাসড়ক দিয়ে সেতু হয়ে ১৯ হাজার ৭৮৭টি যানবাহন চলাচল করেছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে ১০ হাজার ২৫৪টি ও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা দিকে যায় ৯ হাজার ৫৩৩টি যানবাহন।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদ ছুটির তৃতীয় দিন রোববার বৃষ্টির কারণে মনে হয় এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে বৃষ্টি সত্ত্বেও কোনো সড়ক দুর্ঘটনা হয়নি। এ কারণে যানবাহন চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক।

Tangail-pic-1.jpg

তিনি বলেন, মহাসড়কের যানচলাচল স্বাভাবিক ও ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের প্রায় সহস্রাধিক সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করছে। মলমপার্টি ও ছিনতাইমুক্ত মহাসড়ক রাখতে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি র‌্যাবের তৎপরতাও মহাসড়কে জোরদার রয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের ২৬টি জেলার অন্তত ৯০টি সড়কের যানবাহন চলাচল করে। এই মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২০১৩ সালে দুই লেনের এই মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৬ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে দুটি সার্ভিস লেন, ২৯টি নতুন ব্রিজ, চারটি ফ্লাইওভার ও ১৪টি আন্ডারপাস সংযুক্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি এখনও চলমান রয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :