ছেলে হত্যার মামলা তুলে নিতে বাবাকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:০৭ এএম, ০৪ জুন ২০১৯

বরিশালে টাকার বিনিময়ে ছেলে হত্যার মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় বাদীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত আব্দুস সোবাহানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার রমজানকাঠী এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত আব্দুস সোবাহান বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত হামলাকারী মো. ইদ্রিসের বাড়ি একই এলাকায়।

মামলার বাদী আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল আসামি পক্ষের লোকজন। আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন৷ সোমবার রাতে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইদ্রিসের নেতৃত্বে তার কয়েকজন সহযোগী তার (বাদী) বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাকে বড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।

আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করেন, গত ২৬ এপ্রিল তার ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র ইসরাফিল হাওলাদার নয়নকে (১৭) ডেকে নিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে নয়নের লাশ গুম করতে বস্তায় ইট ভরে সুগন্ধা নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরদিন পার্শ্ববর্তী বাবুগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে নয়নের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় পরদিন সোবাহান হাওলাদার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর কয়েকদিন পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. মুমিন এবং আসিফ হাওলাদার নামে আরেক কিশোরকে গ্রেফতার করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে অজ্ঞাত কারণে মুমিনকে ছেড়ে দেয়া হলেও আসিফকে ওই মামলায় সন্দেহজনক গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

মামলার বাদী আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করেন, এক আসামির স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুমিনের নাম জড়ানোর পর থেকেই তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ মামলা তুলে নিতে তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন সাবেক সেনা সদস্য ইদ্রিস৷

সোমবার রাতে ইদ্রিসের নেতৃত্বে তাকে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন। এরপর ইদ্রিস ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে নয়ন হত্যার সন্দেহের তালিকা থেকে মুমিনের নাম বাদ দেয়া সহ মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেন। এতে অস্বীকার করায় ইদ্রিস ও তার সহযোগীরা তাকে (সোবাহান) মারধর করেন। পরে তার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি দিবাকর চন্দ্র কর বলেন, মামলার বাদীর ওপর হামলার ঘটনা তার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফ আমীন/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :