‘ধানের শীষের মনোনয়নের জন্য হাওয়া ভবনে গিয়েছিলেন শাজাহান খান’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শাজাহান খানের সমালোচনা করে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, তিনি (শাজাহান খান) ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ধানের শীষের মনোনয়ন আনতে তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে ছুটে গিয়েছিলেন।

বুধবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরের চরমুগরিয়া বন্দর এলাকায় সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘শাজাহান খান এখন নৌকা ছেড়ে আনারস ধরেছেন। প্রয়োজনে তিনি নৌকা করেন। স্বার্থে না লাগলে নৌকা ভুলে যান। ২০০১ সালে শেখ হাসিনাকে মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল মনোনয়ন বোর্ড। তখন এই শাজাহান খান নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে ছুটে গেয়েছিলেন তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে।’

তিনি বলেন, কোনো আওয়ামী লীগ নেতা কি তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে ছুটে যেতে পারেন? কিন্তু তিনি (শাজাহান খান) সেখানে গিয়েছিলেন ধানের শীষের মনোনয়ন আনতে। সেদিন আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধুর ছবি ও নৌকার অসম্মান করেছিলেন এই শাজাহান খান।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, তিনি মন্ত্রী হয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর পাশে থাকেননি। থেকেছেন তার গণবাহিনী ও জাসদের নেতাকর্মীদের নিয়েই। তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের চেতনা ধারণ করেননি। সবসময় নৌকায় চড়ে সুবিধা নিয়েছেন, এখন নৌকার বিরোধিতায় নেমেছেন। আজকে সময় এসেছে এই দেশবিরোধী, চেতনাবিরোধী, আওয়ামীবিরোধী অপশক্তিকে প্রতিহত করার।

আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, গত মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারা নৌকা প্রতীকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তারা যদি নৌকার বিরোধিতা করেন তাহলে তারা আর জীবনেও কোনো দিন নৌকা প্রতীক পাবেন না। এবার মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করায় চিরদিনের জন্য নৌকাবঞ্চিত হলেন শাজাহান খান। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা আমার নৌকায় চড়ে নৌকার বিরোধিতা করে তাদের আর কোনো দিন নৌকায় জায়গা দেব না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন ইয়াদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি আতাহার সরদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক প্রমুখ।

এ কে এম নাসিরুল হক/এমবিআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :